বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক, প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় বাড়ছে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা
বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর বাণিজ্য নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, পাকিস্তানসহ ৬০টি দেশের জন্যও ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য, নতুন শুল্কের উদ্দেশ্য শুধু বাণিজ্য ঘাটতি কমানো নয়; বরং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের পণ্যের বিরুদ্ধে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর আমদানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। অনেক দেশ একই ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা অন্যায্য বাণিজ্যিক সুবিধা পাচ্ছে।
এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কস্তরে রয়েছে। ফলে চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো প্রধান প্রতিযোগী দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাবে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারার আওতায় তদন্ত শেষে ৬০টি অর্থনীতির জন্য নতুন শুল্কহার ঘোষণা করেছে ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর)। ২৩ জুলাই ঘোষিত এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পূর্বের অস্থায়ী বৈশ্বিক ১০ শতাংশ শুল্কের পরিবর্তে নতুন কাঠামো কার্যকর হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান মোস্ট ফেভার্ড নেশন (এমএফএন) শুল্কের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। ৮৬টি দেশের মধ্যে মাত্র ১৭টি দেশ সর্বনিম্ন এই শুল্কস্তরে রয়েছে এবং বাংলাদেশও সেই তালিকায় স্থান পেয়েছে।
অন্যদিকে চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডকে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে সরকার।
এ ছাড়া বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য তিন বছর মেয়াদি ট্যারিফ-রেট কোটা (টিআরকিউ) চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে ইউএসটিআর। এটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও বস্ত্র উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্ক মওকুফের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রাখতে বাংলাদেশ সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে দেশের রপ্তানি খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
রপ্তানিকারকদের মতে, গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন আদালতের সিদ্ধান্তের পর যে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছিল, নতুন ঘোষণার ফলে মোট শুল্কহারে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন আসছে না। তবে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও শ্রমমান নিয়ে ইউএসটিআরের চলমান তদন্তের ফলাফলের ওপর ভবিষ্যতের শুল্কনীতির প্রভাব নির্ভর করবে।

কোন মন্তব্য নেই: