Header Ads

Breaking News
recent

ট্রাম্প-ইনফান্তিনো সম্পর্ক নিয়ে তদন্তের দাবি, ফিফার কাছে নথি চাইলেন মার্কিন আইনপ্রণেতা

 

ফিফা
বিশ্বকাপের সাফল্যের উচ্ছ্বাস শেষ হতে না হতেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের জুডিশিয়ারি কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন ইনফান্তিনোর কাছে সাক্ষ্য, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। আগামী ৯ আগস্টের মধ্যে এসব তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।


মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাসকিনের অভিযোগ অনুযায়ী ফিফা ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে একটি ‘কুইড প্রো কো’ বা পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, যা স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।


অভিযোগে বলা হয়, গত এক বছরে নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারের ১৭তম তলায় ফিফা একটি অফিস ভাড়া নেয়। এর জন্য প্রতিদিন ১৫ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বছরে যার পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ডলার। এই অর্থ ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের কাছে গেছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনতে চান রাসকিন।


বিতর্কের আরেকটি বিষয় হলো ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের শাস্তি পুনর্বিবেচনার বিষয়ে ট্রাম্প সরাসরি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।


এ বিষয়ে ইনফান্তিনো স্বীকার করেন যে তিনি ট্রাম্পের ফোন পেয়েছিলেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফিফার বিচারিক সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয় এবং তাদের কার্যক্রমে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব থাকে না।


ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যমতে, তদন্তের অংশ হিসেবে ট্রাম্প, তার প্রশাসন, পরিবারের সদস্য এবং ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের সঙ্গে ফিফার সব ধরনের যোগাযোগ, উপহার, সুবিধা ও নথিপত্রও চাওয়া হয়েছে। 

এছাড়া ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফার অফিসে কারা যাতায়াত করেছেন, সেই ভিজিটর লগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
বিশ্বকাপের টিকিটের ডায়নামিক প্রাইসিং নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাসকিন। তার অভিযোগ, বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত অবস্থান কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও তদন্ত চলছে।


সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, বিশ্বকাপকে ঘিরে ‘ঘৃণা ও মিথ্যা গুজব’ ছড়ানো হচ্ছে। 

তার দাবি, উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপ ছিল নিরাপদ, সফল এবং ইতিহাসের অন্যতম সেরা আসর। ফিফার সব সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নেওয়া হয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।


তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতর্ক থামছে না। ফিফার স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং করপোরেট সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.