শূন্য পাসের ২৯৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

শূন্য পাসের ২৯৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ


 ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি—এমন ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আশঙ্কাজনকভাবে কম পাসের হার থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে এক সপ্তাহের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

রোববার (১ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রী এ নির্দেশনার কথা জানান। পোস্টে বলা হয়, যেসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য কিংবা আশঙ্কাজনকভাবে কম, সেগুলোর বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।

শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে

এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের সম্মিলিত ফলাফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। গত বছর এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি। বিপরীতে, এবার ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছেন।

ফলাফলের এই চিত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

পাসের হার ও জিপিএ-৫-এ লিঙ্গভেদে পার্থক্য

এবারের ফলাফলে পাসের হারে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন। ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ, আর ছাত্রদের ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে ছাত্রীরা ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে।

তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্ররা। এবার ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছাত্র এবং ১৯ হাজার ৭২১ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। সে হিসাবে ছাত্রদের মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৪২ জন বেশি।

বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সর্বোচ্চ ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭১৪ জন। অন্যদিকে, বরিশাল বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে কম, ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

গত বছরের তুলনায় এবার সামগ্রিক পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা—দুটিই কমেছে। ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। সেই হিসাবে এবার এই সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।

শূন্য পাস ও কম পাসের হার থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এখনো বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশের ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদানের পরিবেশ, ফল বিপর্যয়ের কারণ এবং ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে

0 Response to "শূন্য পাসের ২৯৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন