১৭ বছরে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হুজহু, ১৭ নভেম্বর বসছে অ্যাওয়ার্ডস ও গালা ডিনার
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের সাফল্য, অবদান ও অনুপ্রেরণামূলক পথচলা তুলে ধরার ধারাবাহিক উদ্যোগ ‘ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হুজহু’ এবার ১৭তম বছরে পদার্পণ করছে। এ উপলক্ষে ২০২৬ সালের নতুন সংস্করণ প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে প্রকাশনাটির উদ্যোক্তা বাংলা মিরর গ্রুপ। প্রকাশনা উদযাপনে আগামী ১৭ নভেম্বর লন্ডনে আয়োজন করা হবে অ্যাওয়ার্ডস প্রদান অনুষ্ঠান ও গালা ডিনার।
বুধবার (৪ নভেম্বর) পূর্ব লন্ডনের লন্ডন মুসলিম সেন্টারের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন সংস্করণ এবং অনুষ্ঠানের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ নভেম্বর মঙ্গলবার মেরিডিয়ান গ্র্যান্ডে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিশিষ্ট অতিথি, পেশাজীবী, কমিউনিটি প্রতিনিধি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
১৭ বছরের পথচলা ও কমিউনিটির অর্জন
সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশনাটির প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক আব্দুল করিম গনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হুজহু কমিউনিটির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ব্যক্তিদের পরিচিতি ও অর্জন তুলে ধরছে। সময়ের সঙ্গে প্রকাশনা এবং পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটি ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের বার্ষিক আয়োজনগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছে।
তিনি জানান, সাধারণ উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এটি এখন কমিউনিটির নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে একত্র করার একটি বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। কমিউনিটিতে অসংখ্য প্রতিভাবান ও সফল মানুষ রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের রয়েছে আলাদা অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প। তবে প্রকাশনার পরিসর বিবেচনায় পরিচিতির সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখাও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
আব্দুল করিম গনি আরও বলেন, নতুন সংস্করণে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের অর্জনের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির বৈচিত্র্য ও সক্ষমতার চিত্র পাঠকের সামনে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রকাশনাটির নির্বাহী সম্পাদক সুহানা আহমেদ বলেন, ১৭ বছরের এই যাত্রা তাঁদের জন্য আনন্দ ও গর্বের। শুরুতে উদ্যোগটি এত দীর্ঘ সময় ধরে বিকশিত হবে, তা হয়তো প্রতিষ্ঠাতারাও ভাবেননি। এত বছর পরও কমিউনিটিতে নতুন প্রতিভা ও সফল মানুষ খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি তাঁকে অনুপ্রাণিত করে। পাঠকেরা এবারের সংস্করণ এবং পুরস্কারপ্রাপ্তদের সাফল্যের গল্প সাদরে গ্রহণ করবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গালা ডিনারে থাকবেন বিভিন্ন অঙ্গনের অতিথিরা
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ১৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অতিথিরা অংশ নেবেন। এর মাধ্যমে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির সাফল্য, বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান উদযাপন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের পাশাপাশি কমিউনিটি নেতা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা, ডা. জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার, তাজ চৌধুরী, মাহবুব রহমান, শাহ ইউসুফ, রাজিব হাসান, চ্যানেল এসের মোস্তাক বাবুল, সাংবাদিক রহমত আলী, ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান, আয়শা চৌধুরী, কাউন্সিলর সৈয়দা চৌধুরী এবং সাংবাদিক আব্দুল আহাদ চৌধুরী বাবু।
এ ছাড়া মেরিডিয়ান গ্র্যান্ডের পরিচালক নিকিতা মালানচান্দানি, জায়মাহ চ্যারিটির ট্রাস্টি ইমেন বাহা, এনার্জি সলিউশনের বদরুল আই সিদ্দিকী, এসিসি টেক্স কনসালটেন্সির প্রতিষ্ঠাতা তপন সাহা, স্কয়ার মাইল ইন্স্যুরেন্স সার্ভিসেসের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জান নাইটস, ডেভিড রয়স্টন এবং সালাম প্যালেসের স্বত্বাধিকারী আবদুস সালাম শেখ উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হুজহুর পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেন ব্যারিস্টার আনোয়ার মিয়া, ব্যারিস্টার নাদিয়া আলী, মোহাম্মদ আলী, ফারুক মিয়া এমবিই, হাফসা নূর ও শিহাব হুসেনসহ অন্যরা।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হুজহু অতীতেও বিভিন্ন মহল থেকে স্বীকৃতি পেয়েছে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকেও প্রতিষ্ঠানটির কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন সংস্করণ প্রকাশ ও গালা ডিনারের মধ্য দিয়ে কমিউনিটির আরও অনেক মানুষের সাফল্য ও অবদান সামনে আসবে—এমন প্রত্যাশা আয়োজকদের
0 Response to "১৭ বছরে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হুজহু, ১৭ নভেম্বর বসছে অ্যাওয়ার্ডস ও গালা ডিনার"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন