ফকিরাপুলে চাঁদা দাবির অভিযোগে হামলা, দুই থানায় মামলা

ফকিরাপুলে চাঁদা দাবির অভিযোগে হামলা, দুই থানায় মামলা


 রাজধানীর ফকিরাপুলে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে হামলা এবং পরে কর্মীদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। পাশাপাশি চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং কর্মীদের আহত করার ঘটনায় পল্টন ও মতিঝিল থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে ফকিরাপুলে অবস্থিত সিএম এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট এজেন্সিতে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত ৯টার দিকে একটি দল প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে চাঁদা দাবি করে। দাবি পূরণে অস্বীকৃতি জানালে সেখানে উত্তেজনা ও হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশের অভিযানে চারজন আটক

অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা শুভর নেতৃত্বে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের আটকের চেষ্টা করে। এ সময় চারজনকে আটক করা সম্ভব হলেও বাকিরা পালিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঘটনার সময় শুভর সঙ্গে সাইদুর রহমান, ইলিয়াস হোসেন, শিমুল, ফারুক আহমেদ, আরাফ হোসেন, মাইনুদ্দিন, তপন, শাওন, মোশাররফ হোসেন, সামিউল হক, নেছার ও হাসানসহ আরও কয়েকজন ছিলেন। তবে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে সাহেব আলী বাদী হয়ে পল্টন থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেছেন। মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

কর্মীদের ওপর দ্বিতীয় হামলার অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, প্রথম ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মী বাসায় যাওয়ার জন্য ভবনের নিচে নামলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা চাপাতি দিয়ে তাঁদের হাত ও পায়ে আঘাত করে বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হন।

এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের কর্মী ইমতিয়াজ বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় পৃথক মামলা করেছেন। এতে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান জানান, এজাহার পাওয়ার পর মামলা তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পলাতক রয়েছেন।

পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হামলা এবং চাঁদা দাবির অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারিত হবে।

0 Response to "ফকিরাপুলে চাঁদা দাবির অভিযোগে হামলা, দুই থানায় মামলা"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন