কুয়েতে ইয়েমেনি নাগরিক হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশি প্রবাসীর আত্মসমর্পণ
কুয়েতে এক ইয়েমেনি নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন আরমান নামের এক বাংলাদেশি প্রবাসী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোরে দেশটির শার্ক থানায় গিয়ে হত্যার কথা জানান তিনি। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।
কুয়েতের সংবাদমাধ্যম আরব টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থানায় উপস্থিত হয়ে ওই বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের কাছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এ সময় তাকে ভীত ও উদ্বিগ্ন অবস্থায় দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পানি ছিটানো নিয়ে বিরোধের দাবি
জিজ্ঞাসাবাদে আরমান দাবি করেন, নিহত ইয়েমেনি নাগরিক তার শরীরে পানি ছিটিয়েছিলেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ওই ব্যক্তির ওপর হামলা চালান বলে স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এদিকে কুয়েতের মুতলা শহরের একটি ভবন থেকে ওই ইয়েমেনি নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে গলায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশি সন্দেহভাজনের বক্তব্যের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তদন্ত শুরু, আইনি প্রক্রিয়ায় সন্দেহভাজন
মরদেহ উদ্ধারের পর নিরাপত্তাকর্মীরা ঘটনাস্থল ঘিরে রাখেন। পরে পাবলিক প্রসিকিউশন, অপরাধ তদন্ত বিভাগ এবং ফরেনসিক দলের সদস্যরা সেখানে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করেন।
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওই বাংলাদেশি আগে থেকেই নিজ আবাসস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে নথিভুক্ত ছিলেন। তাকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ, ঘটনার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি এবং কথিত বিরোধের কারণ সম্পর্কে কুয়েতের কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তাই সন্দেহভাজনের দেওয়া বক্তব্যকে তদন্তে যাচাইয়ের বিষয় হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
0 Response to "কুয়েতে ইয়েমেনি নাগরিক হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশি প্রবাসীর আত্মসমর্পণ"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন