ইয়েমেনে সংঘাতের ছয় দিনে ৫৫৯ জন হতাহত
ছয় দিনে ৫৫৯ জন হতাহত
ইয়েমেনে চলমান সামরিক সংঘাতে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। গত আগস্ট থেকে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় দেশটিতে ১ হাজার ৬৭৭ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৩৯৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ছয় দিনে ৫৫৯ জন হতাহত হয়েছেন। এ সময় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯৩ জন হতাহত হয়েছেন। সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, প্রতিবেদনভুক্ত সময়ে ইয়েমেনের তাইজ, লাহজ ও মারিব প্রদেশে লড়াই অব্যাহত ছিল। অন্যদিকে, এডেন, আল-দালি ও শাবওয়াহ প্রদেশে তুলনামূলক কম হতাহতের তথ্য পাওয়া গেছে।
আহতদের চিকিৎসায় জরুরি সহায়তা
সংঘাতে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত ২৪ অক্টোবর তাইজ শহরে ৫৬টি ট্রমা ও জরুরি চিকিৎসা কিট পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৪৬টি ছিল আঘাতজনিত রোগীদের চিকিৎসার জন্য এবং ১০টি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের কাজে ব্যবহারের জন্য।
এ ছাড়া তিনটি হাসপাতাল ও একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য প্রায় ৩০ মেট্রিক টন চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। সংঘাতের মধ্যে আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া এবং হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে এসব সরঞ্জাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে শুধু চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করলেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ক্ষয়ক্ষতি, চিকিৎসাকর্মীদের সীমিত সক্ষমতা এবং সরঞ্জামের ঘাটতি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে।
মারিবে সীমিত স্বাস্থ্যসেবা, হাসপাতালে গোলাবর্ষণ
মারিব প্রদেশের স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটি জানিয়েছে, সেখানে ৩১টি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা দলের মধ্যে মাত্র ছয়টি এখনো কার্যক্রম চালাতে পারছে। অর্থাৎ, মোট দলের পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও কম কার্যকর রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর ক্ষয়ক্ষতি এবং চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, গত ২০ অক্টোবর তাইজ শহরের আল-থাওরা জেনারেল হাসপাতালে গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এতে তিন সেনাসদস্য ও একজন রোগী আহত হন। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আশপাশে সংঘাত চলতে থাকলে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া এবং অন্যান্য রোগীর সেবা অব্যাহত রাখা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনে সংঘাতের কারণে হতাহতের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ওপর চাপও বাড়ছে। জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহের উদ্যোগ চললেও চিকিৎসা দলগুলোর কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সময়মতো স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
0 Response to "ইয়েমেনে সংঘাতের ছয় দিনে ৫৫৯ জন হতাহত"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন