মাইক্রোসফটের আয় ৯২.৩ বিলিয়ন ডলার

মাইক্রোসফটের আয় ৯২.৩ বিলিয়ন ডলার


 ক্লাউড ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি, আয় ৯২.৩ বিলিয়ন ডলার

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের আয় আবারও নতুন রেকর্ড গড়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে ৯২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। এ নিয়ে টানা ১০ প্রান্তিকে আয়ের রেকর্ড গড়ল প্রতিষ্ঠানটি।

প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচ্য প্রান্তিকে মাইক্রোসফটের নিট মুনাফা হয়েছে প্রায় ৩৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মুনাফা বেড়েছে ৩২ শতাংশ।

এই প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে মাইক্রোসফটের ক্লাউড ব্যবসা। এ খাতে প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে ৬৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যা এক বছরের ব্যবধানে ৩০ শতাংশ বেশি। অ্যাজুরসহ ক্লাউড অবকাঠামোর চাহিদা বৃদ্ধি এবং অনলাইনভিত্তিক সফটওয়্যার সেবার সম্প্রসারণ প্রতিষ্ঠানটির আয়ের অন্যতম চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

ওপেনএআইয়ের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কহ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর-সমাপ্ত প্রান্তিকে ওপেনএআইয়ের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা থেকে মাইক্রোসফটের আয় হয়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে রাজস্ব ভাগাভাগির অর্থ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক লেনদেন অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে এই আয়ের কত অংশ রাজস্ব ভাগাভাগি থেকে এসেছে আর কত অংশ ক্লাউড সেবার মাধ্যমে এসেছে, তা স্পষ্ট নয়।

ওপেনএআই মাইক্রোসফটের ক্লাউড অবকাঠামোর পাশাপাশি অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস ও ওরাকলের মতো প্রতিষ্ঠানের সেবাও ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে অ্যানথ্রপিকও অ্যাজুর ক্লাউড ব্যবহার করে। ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত চাহিদা বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করছে।

তবে ক্লাউড থেকে আসা সব আয়কে এআই-সংশ্লিষ্ট হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রচলিত সফটওয়্যার, তথ্য সংরক্ষণ, ডেটা বিশ্লেষণ এবং অনলাইন সেবা পরিচালনার জন্যও ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবহার করে।

অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ, কমেছে ডিভাইসের আয়

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, বিদ্যমান চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বাণিজ্যিক আয়ের পরিমাণ বেড়ে ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭৩ শতাংশ বেশি। এই ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণে ক্লাউড অবকাঠামো ও কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটিকে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে হচ্ছে।

আলোচ্য প্রান্তিকে মাইক্রোসফটের মূলধনী ব্যয় হয়েছে ৪৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। ডেটা সেন্টার, সার্ভার ও এআই-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্প্রসারণে এ ধরনের ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি এসব সক্ষমতা থেকে দীর্ঘমেয়াদে কতটা আয় ও মুনাফা আসবে, সেটিও ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অন্যদিকে, ডিভাইস ও ভোক্তাপণ্য-সংশ্লিষ্ট বিভাগে আয় হয়েছে ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ কম। এ বিভাগে উইন্ডোজের জন্য কম্পিউটার নির্মাতাদের কাছ থেকে পাওয়া আয় এবং ডিভাইস বিক্রির আয় কমেছে ২২ শতাংশ।

সামগ্রিক ফলাফল বলছে, ক্লাউড ও এআইয়ের চাহিদা মাইক্রোসফটের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে এই খাতে সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার পাশাপাশি অবকাঠামো বিনিয়োগ থেকে পর্যাপ্ত আর্থিক সুফল নিশ্চিত করাও মাইক্রোসফটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

0 Response to "মাইক্রোসফটের আয় ৯২.৩ বিলিয়ন ডলার"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন