বার্সেলোনার একাদশে ফিরতে মরিয়া ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, ফ্লিকের আস্থা অর্জনে নতুন লড়াই

বার্সেলোনার একাদশে ফিরতে মরিয়া ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, ফ্লিকের আস্থা অর্জনে নতুন লড়াই


বার্সেলোনার মূল একাদশে নিয়মিত জায়গা ফিরে পেতে চান ডাচ মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং। চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার পর এবার দলের হয়ে আরও বেশি সময় খেলার সুযোগ পেতে আগ্রহী এই তারকা ফুটবলার। রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে এল ক্লাসিকোয় বদলি হিসেবে মাঠে নেমে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন তিনি। এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য কোচ হান্সি ফ্লিকের আস্থা অর্জন করা এবং ধীরে ধীরে বার্সেলোনার প্রথম একাদশে নিজের জায়গা পুনরুদ্ধার করা।

দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার পর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফেরা ডি ইয়ংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। তবে পুরোপুরি ছন্দে ফিরতে এবং নিয়মিত খেলার উপযোগী হয়ে উঠতে তাঁকে ধাপে ধাপে এগোতে হবে। নিজের ফিটনেস নিয়ে আশাবাদী এই ডাচ ফুটবলার মনে করছেন, সামনে আরও বেশি সময় মাঠে থাকার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে তিনি বুঝতে পারছেন, বার্সেলোনার মতো দলে নিয়মিত জায়গা পেতে হলে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি কোচের পরিকল্পনার সঙ্গেও মানিয়ে নিতে হবে।

মূল একাদশে ফেরাই ডি ইয়ংয়ের প্রধান লক্ষ্য

ডাচ টেলিভিশন চ্যানেল জিগো স্পোর্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও মাঠে ফেরার পরবর্তী লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় বেঞ্চে বসে থাকা তাঁর পছন্দ নয়। চলতি মৌসুমেও নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়াই তাঁর প্রত্যাশা।

ডি ইয়ং বলেন, ‘আমি কখনোই দীর্ঘ সময় বেঞ্চে বসে থাকিনি, আর এই মৌসুমেও সেটা চাই না। এখন আমি পুরোপুরি ফিট এবং প্রতিদিন আরও ফিট হচ্ছি। আশা করি, আরও বেশি সময় খেলার সুযোগ পাব।’

তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, চোটের কারণে ছন্দ হারালেও দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তিনি। তবে শুধু নিজের ফিটনেস ফিরে পেলেই যে মূল একাদশে জায়গা নিশ্চিত হবে, বিষয়টি এমন নয়। বার্সেলোনার মাঝমাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ কঠিন। তাই অনুশীলন ও ম্যাচে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে কোচের আস্থা অর্জন করতে হবে তাঁকে।

ডি ইয়ং আরও জানিয়েছেন, মাঠে ফেরার পর ধীরে ধীরে নিজের খেলার সময় বাড়াতে চান। তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি, ধীরে ধীরে ফিরতে হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো নিয়মিত খেলা এবং যত দ্রুত সম্ভব মূল একাদশে জায়গা ফিরে পাওয়া।’

অর্থাৎ, তাৎক্ষণিকভাবে পুরো ম্যাচ খেলার চেয়ে নিজের শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখা এবং ধাপে ধাপে দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন এই মিডফিল্ডার। দীর্ঘমেয়াদে বার্সেলোনার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ধরে রাখাই তাঁর লক্ষ্য।

চোট কাটিয়ে এল ক্লাসিকোয় প্রত্যাবর্তন

বিশ্বকাপের সময় নেদারল্যান্ডসের হয়ে খেলতে গিয়ে ডান হাঁটুর লিগামেন্টে চোট পেয়েছিলেন ডি ইয়ং। সেই চোটের কারণে তাঁকে দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। একজন পেশাদার ফুটবলারের জন্য দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকা যেমন শারীরিকভাবে কঠিন, তেমনি প্রতিযোগিতামূলক ছন্দ ফিরে পাওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ।

দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে গত রোববার রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে এল ক্লাসিকো দিয়ে মাঠে ফেরেন ২৯ বছর বয়সী এই ডাচ তারকা। বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যকার এই ম্যাচ ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত দ্বৈরথ। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে ফেরার সুযোগ পাওয়া ডি ইয়ংয়ের জন্য ছিল প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে প্রত্যাবর্তনের একটি উল্লেখযোগ্য ধাপ।

ম্যাচটিতে বদলি হিসেবে নেমে প্রায় ১৬ মিনিট খেলেন তিনি। স্বল্প সময় মাঠে থাকলেও তাঁর প্রত্যাবর্তন বার্সেলোনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর ম্যাচের গতি, প্রতিপক্ষের চাপ এবং দলের কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

তবে চোট থেকে ফিরে আসার পর একজন খেলোয়াড়ের পক্ষে সঙ্গে সঙ্গেই আগের মতো পূর্ণ সময় খেলা সব সময় সম্ভব হয় না। বিশেষ করে হাঁটুর লিগামেন্টের চোটের পর শারীরিক সক্ষমতা ও ম্যাচ ফিটনেসের বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। ডি ইয়ংয়ের ক্ষেত্রেও ধীরে ধীরে খেলার সময় বাড়ানোর পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ডি ইয়ংকে নিয়ে সন্তুষ্ট হান্সি ফ্লিক

বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিকও ডি ইয়ংয়ের প্রত্যাবর্তনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, অনুশীলনে ভালো করেছেন এই মিডফিল্ডার এবং বল পায়ে দলের খেলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সামর্থ্য তাঁর রয়েছে।

ফ্লিক বলেন, ‘সে অনুশীলনে খুব ভালো করেছে এবং বল পায়ে আমাদের অনেক শক্তি জোগায়। কয়েক মিনিটের জন্য হলেও তার মাঠে নামাটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

কোচের এই বক্তব্য ডি ইয়ংয়ের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কারণ, চোট কাটিয়ে ফেরার পর একজন খেলোয়াড়ের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে কোচের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে নিয়মিত প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়ার জন্য তাঁকে নিজের সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে প্রমাণ করতে হবে।

এল ক্লাসিকোয় ডি ইয়ংকে তাঁর স্বাভাবিক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড পজিশনের পরিবর্তে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডে খেলান ফ্লিক। এই সিদ্ধান্তও নজরকাড়া। সাধারণত মাঝমাঠের গভীর অঞ্চল থেকে বলের নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং আক্রমণ গড়ে তোলার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ডি ইয়ং। তবে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডে খেললে তাঁকে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের কাছাকাছি থেকে আক্রমণ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হয়।

কোচের এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে তাঁর ভূমিকা কী হবে, সে বিষয়ে আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে একটি ম্যাচে পজিশন পরিবর্তন করেই তাঁর নিয়মিত ভূমিকা নির্ধারিত হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ফ্লিক দলের প্রয়োজন, খেলোয়াড়দের ফিটনেস এবং প্রতিপক্ষের কৌশল বিবেচনা করেই একাদশ ও পজিশন ঠিক করতে পারেন।

বার্সেলোনার মাঝমাঠে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা

ডি ইয়ংয়ের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বার্সেলোনার মাঝমাঠে নিজের জায়গা নিশ্চিত করা। এই বিভাগে একাধিক প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকায় নিয়মিত প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়া সহজ হবে না।

পেদ্রি, গাভি ও মার্ক বার্নালের মতো খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দলের মাঝমাঠের বিভিন্ন ভূমিকা নিয়ে প্রতিযোগিতা রয়েছে। ফলে ডি ইয়ংকে শুধু চোট কাটিয়ে ফেরা নয়, দলের কৌশলের সঙ্গে নিজের পারফরম্যান্সের সামঞ্জস্যও দেখাতে হবে।

মাঝমাঠে পাসের নিয়ন্ত্রণ, চাপের মধ্যে বল ধরে রাখা, আক্রমণ শুরু করা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করার মতো কাজগুলো বার্সেলোনার খেলার ধরনে গুরুত্বপূর্ণ। ডি ইয়ংয়ের দক্ষতা এসব ক্ষেত্রে দলের কাজে আসতে পারে। তবে কোন ম্যাচে তাঁকে কোন ভূমিকায় ব্যবহার করা হবে, তা নির্ভর করবে ফ্লিকের পরিকল্পনার ওপর।

এদিকে দানি ওলমোর চোট আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডে সুযোগের সমীকরণে পরিবর্তন এনেছে। বর্তমানে ওই জায়গায় খেলছেন ফেরমিন লোপেজ। ফলে ডি ইয়ংয়ের সামনে একাধিক সম্ভাবনা থাকলেও নিজের পছন্দের পজিশনে নিয়মিত খেলার নিশ্চয়তা নেই।

দলের একাদশে জায়গা পেতে তাঁকে অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। একই সঙ্গে চোটের পর নিজের শারীরিক সক্ষমতা ধরে রেখে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করাও জরুরি।

সামনে কী অপেক্ষা করছে ডি ইয়ংয়ের জন্য?

ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের প্রত্যাবর্তন বার্সেলোনার মাঝমাঠে বিকল্প বাড়িয়েছে। তাঁর বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং মাঝমাঠ থেকে খেলা এগিয়ে নেওয়ার দক্ষতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে তিনি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, তা নির্ভর করবে তাঁর ফিটনেস, ম্যাচে পারফরম্যান্স এবং কোচের কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর।

ডি ইয়ং নিজেও পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন। তিনি দ্রুত মূল একাদশে ফিরতে চান, কিন্তু একই সঙ্গে বুঝতে পারছেন, চোটের পর ধাপে ধাপে এগোনো প্রয়োজন। তাই সামনে তাঁর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে অনুশীলনে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং মাঠে পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগানো।

বার্সেলোনার হয়ে নিয়মিত খেলার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলে দলের মাঝমাঠ আরও শক্তিশালী হতে পারে। অন্যদিকে, প্রতিযোগিতামূলক একাদশে জায়গা ধরে রাখতে হলে তাঁকে পেদ্রি, গাভি, মার্ক বার্নাল ও ফেরমিন লোপেজের মতো খেলোয়াড়দের উপস্থিতির মধ্যেও নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করতে হবে।

সব মিলিয়ে, চোট কাটিয়ে এল ক্লাসিকোয় মাঠে ফেরা ডি ইয়ংয়ের জন্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা। কোচ হান্সি ফ্লিকের ইতিবাচক মন্তব্য তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ম্যাচগুলোতে কতটা সময় পান এই ডাচ মিডফিল্ডার এবং নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে কত দ্রুত বার্সেলোনার মূল একাদশে নিয়মিত জায়গা ফিরে পেতে সক্ষম হন।

0 Response to "বার্সেলোনার একাদশে ফিরতে মরিয়া ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, ফ্লিকের আস্থা অর্জনে নতুন লড়াই "

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন