চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ জীবন মারা গেছেন, ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় সশস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত আবু ইউসুফ ওরফে জীবন (২৭) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জীবনের পায়ে গুরুতর গুলির আঘাত ছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর ডান পা কেটে ফেলতে হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কে জীবনসহ চার-পাঁচজন আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় ১৩ থেকে ১৪ জনের একটি সশস্ত্র দল সেখানে আসে। দলটির কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ছিল এবং তাদের হাতে ছুরি ও পিস্তল ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে জীবনকে কিল-ঘুষি মারেন, পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। একপর্যায়ে তাঁর পা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এরপর হত্যার হুমকি দিয়ে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান।
পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তার নিয়ে উদ্বেগ
জীবনের বাবা অভিযোগ করেছেন, প্রকাশ্যে তাঁর ছেলেকে কুপিয়ে ও গুলি করে আহত করা হলেও এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। মামলা করার পর আসামিপক্ষের লোকজন থানায় মামলা নেওয়ার কারণে ওসির বিরুদ্ধে সমাবেশ করার কথা বলছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁদের এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না—এমন আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
জীবনের বাবা আরও দাবি করেন, পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানোর কথা বললেও অভিযুক্তদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাঁরা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাঁর ছেলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল—এমন অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পারার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দোকানদারি করেও তিনি ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। অর্থের অভাবে ছেলের চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ জোগাড় করতেও সমস্যায় পড়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সুষ্ঠু বিচারের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন জীবনের বাবা।
৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, অভিযান অব্যাহত
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, ঘটনার পরদিন জীবনের মা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অর্থাৎ, মামলায় মোট ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলায় যুবদল নেতা জিল্লুর রহমান জুয়েলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।
হামলার ঘটনায় একজনের মৃত্যু হওয়ায় মামলাটি এখন আরও গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে
0 Response to "চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ জীবন মারা গেছেন, ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন