Header Ads

Breaking News
recent

বৈজয়ন্তীমালার সঙ্গে দেখা করতে উত্তম কুমারের সেই আকুতি, ‘পলাশ, প্লিজ, না বোলো না’

 


বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তম কুমার শুধু অভিনয় দিয়ে নয়, সহকর্মীদের সঙ্গে তার সহজ-সরল ব্যবহারের জন্যও স্মরণীয় হয়ে আছেন। তার এমনই এক মানবিক ঘটনার কথা স্মরণ করেছেন তৎকালীন সহকারী পরিচালক পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়।

তপন সিনহার ‘জতুগৃহ’ সিনেমায় উত্তম কুমারের সঙ্গে পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচয় হয়। শুটিংয়ের সময় শিল্পী-কুশলীদের সঙ্গে অত্যন্ত সাধারণভাবে মিশতেন উত্তম। কখনো নিজের দামি সিগারেট অন্যদের দিতেন, আবার কখনো সহকর্মীদের কমদামি বিড়িও খেতেন।

১৯৬৭ সালে তপন সিনহা নির্মাণ করছিলেন ‘হাটে বাজারে’। সিনেমাটিতে অশোক কুমার ও বৈজয়ন্তীমালার অভিনয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পর টালিগঞ্জে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। একদিন স্টুডিওতে হঠাৎ হাজির হন উত্তম কুমার।

পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, উত্তম কুমার সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বললেও তাকে আলাদা করে ডেকে নেন। এরপর কাঁধে হাত রেখে বলেন, ‘পলাশ, তোমার সঙ্গে কথা আছে, একটু এদিকে এসো।’ পরে নিজের প্রয়োজনের কথা জানিয়ে উত্তম অনুরোধ করেন, বৈজয়ন্তীমালার সঙ্গে তাকে যেন দেখা করিয়ে দেওয়া হয়।

তখন বৈজয়ন্তীমালা তপন সিনহার অফিসকক্ষে ‘হাটে বাজারে’র স্ক্রিপ্ট শুনছিলেন। বাইরে থেকে কারও সেখানে প্রবেশের সুযোগ ছিল না। তাই পলাশকে উত্তম বলেন, ‘তুমি একটু মালাজির সঙ্গে আমার দেখা করিয়ে দাও। তুমি ছাড়া ওখানে কেউ ঢুকতে পারবে না। পলাশ, প্লিজ, না বোলো না।’

উত্তম কুমারের এমন অনুরোধে পলাশ শেষ পর্যন্ত তপন সিনহার অফিসকক্ষে প্রবেশ করেন এবং বৈজয়ন্তীমালার কাছে উত্তম কুমারের সঙ্গে দেখা করার কথা জানান। বৈজয়ন্তীমালা সম্মতি দিলে উত্তম কুমার ভেতরে প্রবেশ করেন।

পরদিন জানা যায়, এর পেছনে ছিল উত্তম কুমারের ব্যক্তিগত ও পেশাগত দুশ্চিন্তা। প্রযোজক হিসেবে তিনি হিন্দি সিনেমা ‘ছোটি সি মুলাকাত’ নির্মাণ করছিলেন, যেখানে বৈজয়ন্তীমালা ছিলেন নায়িকা। তৎকালীন বম্বের চলচ্চিত্রজগতের বাস্তবতা বুঝতে না পেরে উত্তম কুমার সিনেমাটিতে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বৈজয়ন্তীমালার শিডিউল নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় এবং শুটিং শুরু করা সম্ভব হচ্ছিল না।

এ কারণে বৈজয়ন্তীমালা কিছুটা বিরক্ত হয়ে সিনেমাটির জন্য নতুন করে সময় দিতে চাইছিলেন না। নতুন প্রযোজক হিসেবে উত্তম কুমারও তখন দুশ্চিন্তায় ছিলেন। সেই পরিস্থিতিতেই ‘হাটে বাজারে’র স্ক্রিপ্ট রিডিং চলাকালে বৈজয়ন্তীমালার সঙ্গে কথা বলতে তপন সিনহার স্টুডিওতে ছুটে এসেছিলেন তিনি।

৯১ বছর বয়সী পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায় সবকিছু হয়তো আগের মতো স্পষ্ট মনে করতে পারেন না। তবে বহু বছর পরও তার কানে বাজে মহানায়কের সেই অনুরোধ—‘পলাশ, প্লিজ, না বোলো না।’

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.