Header Ads

Breaking News
recent

প্রতিকূলতা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ফিনটেক অঙ্গনে তানভীর আহমেদের সাফল্যের গল্প

 


একজন স্বপ্নবাজ তরুণ। বাবা-মায়ের আদরের ছেলে। পড়াশোনা শেষ করার আগেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণের পথ মোটেও সহজ ছিল না। বাবাকে অসময়ে হারানোর পর সামাজিক চাপ, আর্থিক সংকট ও নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জীবন পার করতে হয়েছে সৈয়দ তানভীর আহমেদকে।

বাবার মৃত্যুর পর একদিকে যেমন পারিবারিক নানা আশঙ্কা তৈরি হয়, অন্যদিকে আত্মীয়-স্বজনের মধ্যেও তাকে ঘিরে তৈরি হয় বিভিন্ন অনিশ্চয়তা। অনার্স পড়ুয়া তানভীরকে অনেকেই প্রত্যাখ্যান করতে শুরু করেন। বন্ধু ও বড় ভাইদের কাছেও একসময় নিজেকে বোঝা মনে হচ্ছিল তার।

তবে প্রতিকূলতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং সফল হওয়ার সংকল্প আরও দৃঢ় হয়। নিজের প্রতি আস্থা রেখে তিনি এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

অনার্স পড়ার সময় দেশে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার পরিচিতজনদের মধ্যে। তানভীরের সিদ্ধান্ত ও কথার ওপর আস্থা রেখে অনেকে তার মাধ্যমে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করেন। তার মাধ্যমে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়।

কিন্তু এরপরই জীবনের বড় একটি সংকটের মুখোমুখি হন তিনি। যে বন্ধুর সঙ্গে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেই বন্ধুই টাকা নিয়ে ইউরোপের একটি দেশে চলে যান। মুহূর্তেই কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে যান তানভীর।

তখন তার সামনে ছিল পালিয়ে যাওয়ার কিংবা পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পথ। তিনি দ্বিতীয় পথটি বেছে নেন। দায়িত্ব ও আস্থার জায়গা থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। পরবর্তীতে যাদের অর্থ তার মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হয়েছিল, তাদের পাওনা শোধ করেন তিনি।

এর পাশাপাশি অনার্স ও এমবিএ সম্পন্ন করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন তানভীর। ক্যারিয়ারের শুরুতে গ্লোবাল মার্কেট ইনডেক্স (জিএমআই)-এ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে জারা এফএক্সে সেলস ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেন।

এই সময়ে আন্তর্জাতিক ট্রেডিং ও ফরেন এক্সচেঞ্জ ইকোসিস্টেম সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। শুধু কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক পণ্য বিক্রির মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে ধীরে ধীরে একজন মার্কেট বিল্ডিং প্রফেশনাল হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন।

তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় পরিবর্তন আসে ওয়ান রয়্যালের সঙ্গে কাজ করার সময়। সেখানে রিজিওনাল বিজনেস ডেভেলপমেন্টের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরবর্তীতে রিজিওনাল হেড অব বিজনেস পদে উন্নীত হন তিনি।

২০২৫ সালে সাউথইস্ট এশিয়া (এসইএ) অঞ্চলের বিজনেস ডেভেলপমেন্টের দায়িত্ব পান সৈয়দ তানভীর আহমেদ। রিজিওনাল মার্কেট পেনিট্রেশন, স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ, অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে কাজ করেন তিনি।

মাঠপর্যায়ের নেতৃত্বেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তানভীর। ওমানের মাসকাট মার্কেট এক্সপানশন লিডারশিপে গালফ অঞ্চলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান তিনি।

পরবর্তীতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় একটি ফিনটেক প্রতিষ্ঠানে আরও বড় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মধ্যপ্রাচ্যের বাজার নিয়ে তার ব্যবসায়িক দর্শনও তাকে আলাদা অবস্থান তৈরি করতে সহায়তা করে।

তানভীরের মতে, কোনো বৈশ্বিক পণ্য সব বাজারে একইভাবে কার্যকর নাও হতে পারে। প্রতিটি বাজারের নিজস্ব বাস্তবতা, গ্রাহকের আচরণ ও ব্যবসায়িক কাঠামো বিবেচনায় নিয়ে কৌশল নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এই দর্শন ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক ফিনটেক বাজারে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন তিনি।

ফিনটেক খাতে তার কাজ ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে সৈয়দ তানভীর আহমেদ ফোর্বস মিডল ইস্ট এবং দ্য ইএন টাইমস থেকে রিটেইল এফএক্স বিজনেস ডেভেলপমেন্ট রিকগনিশন অর্জন করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

একসময় আর্থিক সংকট, সামাজিক চাপ, পারিবারিক অনিশ্চয়তা ও অবিশ্বাসের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জীবন পার করা সেই তরুণ আজ আন্তর্জাতিক ফিনটেক অঙ্গনে নেতৃত্বের জায়গায় নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।

তানভীর আহমেদের গল্প তাই শুধু একজন ফিনটেক পেশাজীবীর ক্যারিয়ার সাফল্যের গল্প নয়। এটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দায়িত্ববোধ, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের গল্প।

নতুন প্রজন্মের জন্য তার এই পথচলা হতে পারে অনুপ্রেরণার একটি উদাহরণ—হতাশ না হয়ে, থেমে না গিয়ে এবং কঠিন পরিস্থিতিকে ভয় না করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.