সমালোচনা ভুলে ক্রিকেটে মনোযোগী প্রসিধ
ভারতের পেসার প্রসিধ কৃষ্ণের সামর্থ্য নিয়ে দল ও ম্যানেজমেন্টের কখনোই সংশয় ছিল না বলে জানিয়েছেন ভারতের বোলিং কোচ মর্নে মরকেল। তার মতে, বাইরের সমালোচনা উপেক্ষা করে ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়ার কারণেই প্রসিধ এখন আরও আত্মবিশ্বাসী ও ধারাবাহিক হয়ে উঠেছেন।
মরকেল বলেন, ‘দল ও ম্যানেজমেন্ট হিসেবে আমরা সবসময়ই তার সামর্থ্য সম্পর্কে জানতাম। তার জন্য বিষয়টি ছিল বাইরের কণ্ঠগুলোকে স্তব্ধ করে শুধু ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়া।’
প্রসিধ এখন বাইরের সমালোচনা উপেক্ষা করে নিজের খেলায় আস্থা রাখতে শিখেছেন বলেও জানান ভারতীয় এই কোচ। তার ভাষায়, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো সব চিন্তা ও মন্তব্য থেকে নিজেকে মুক্ত করেছেন প্রসিধ। এখন তিনি ক্রিকেট উপভোগ করছেন এবং বোলিং করতে ভালোবাসছেন।
প্রসিধের কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করে মরকেল বলেন, ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ নিয়ে তিনি অনেক হোমওয়ার্ক ও গবেষণা করেন। তার মতে, প্রসিধ ক্রিকেটের দারুণ এক শিক্ষার্থী এবং তাকে বেড়ে উঠতে ও বিশ্বমানের বোলারে পরিণত হতে দেখা সত্যিই আনন্দের।
মরকেল মনে করেন, সব সংস্করণে ভারতের হয়ে দীর্ঘ সময় খেলার মতো সামর্থ্য ও প্রতিভা প্রসিধের রয়েছে।
প্রসিধের বাউন্সার ব্যবহারের ভূমিকাও দলের পরিকল্পনার অংশ বলে জানিয়েছেন মরকেল। তিনি বলেন, প্রসিধের বাড়তি গতি ও বাউন্স দলের জন্য বাড়তি অস্ত্র। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাকে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়, যেখানে ঝুঁকি থাকলেও সেখান থেকে বড় পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ থাকে।
গত দুই-তিন বছরে দলের হয়ে কঠিন দায়িত্ব পালন করেও প্রসিধের খেলায় উন্নতি হয়েছে বলে জানান মরকেল। তার ভাষায়, অনেক সময় কাজটি কঠিন হলেও প্রসিধ তা খুব ভালোভাবে করে আসছেন। এখন তিনি আরও ধারাবাহিকভাবে ফুলার লেন্থে বল করতে পারছেন, যা দলের জন্য ইতিবাচক দিক।
কলম্বোর তুলনামূলক নিষ্প্রাণ উইকেটে ভারতীয় বোলারদের ৮ উইকেট নিতে কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মরকেল বোলিং পার্টনারশিপ ও চাপ তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, কোনো ব্যাটিং জুটি যখন ক্রিজে জমে যায়, তখন সেটি কীভাবে ভাঙা যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এরপর নতুন ব্যাটার ক্রিজে আসার পর প্রথম ১০ থেকে ১৫ বল কীভাবে করা হবে, সেটিও বোলারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
মরকেলের মতে, এ ধরনের কঠিন পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা থেকেই দলের তরুণ বোলাররা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিতে পারবেন।

কোন মন্তব্য নেই: