চীন-ভারত সীমান্ত সংকট সমাধানে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত দুই দেশ
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন, সীমান্ত সংকটের সমাধানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।
মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকের পর চীন ও ভারত সীমান্ত বিরোধের ‘ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত এবং উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান’ খুঁজে বের করতে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশ হিমালয় অঞ্চলে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ অনির্ধারিত ও বিতর্কিত সীমান্ত ভাগ করে আসছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওয়াং ই ও অজিত দোভাল সীমান্ত সমস্যা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে সংক্ষিপ্ত হলেও বিস্তৃত, গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক আলোচনা করেছেন।
বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, চীন-ভারত সম্পর্ক এখন আর শুধু দ্বিপাক্ষিক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর বৈশ্বিক ও কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং মতপার্থক্য কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর চীন ও ভারতের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে দীর্ঘ সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সৈন্য প্রত্যাহারের চুক্তি বাস্তবায়নের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ধীরে ধীরে উন্নত হতে শুরু করে।
সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইতিবাচক সংকেত হিসেবে গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাত বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীন সফর করেন। তবে সীমান্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দেওয়ায় সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়।
মঙ্গলবারের বৈঠকে ওয়াং ই অজিত দোভালকে বলেন, উভয় পক্ষেরই অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। সীমান্ত সমস্যাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে উপযুক্ত স্থানে রেখে সম্পর্কের অগ্রগতি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
চীনের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৭ সালে ভারতে সীমান্ত সংক্রান্ত আলোচনার পরবর্তী পর্ব আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই: