১৫ শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও জীবননগর সরকারি কলেজে ১৭ জনের ১৬ জনই ফেল
প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখায় ১৫ জন শিক্ষক এবং সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তুলনামূলকভাবে এত জনবল থাকার পরও শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফল স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত শনিবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলের এই চিত্র সামনে আসে।
শিক্ষার মান নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ
এমন ফলাফলে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকেরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক জানান, সন্তানদের ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা নিয়ে কলেজে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু শিক্ষক ও জনবল থাকার পরও অধিকাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ওই অভিভাবকের মতে, শুধু শিক্ষক নিয়োগ বা জনবল থাকলেই শিক্ষার মান নিশ্চিত হয় না। নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে এসব ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি।
ফল খারাপের কারণ জানাল কলেজ কর্তৃপক্ষ
প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. ইমরুল কাদির জানিয়েছেন, এবারের ফলাফল তাঁদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতি, পড়াশোনায় অমনোযোগ এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে তাঁর বক্তব্য।
তিনি আরও জানান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সংকট রয়েছে। উচ্চতর গণিত, ইংরেজি এবং তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতাও ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানো, দুর্বলদের জন্য বিশেষ পাঠদানের ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের পর শিক্ষার্থীদের ফলাফলে কতটা উন্নতি আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়
0 Response to "১৫ শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও জীবননগর সরকারি কলেজে ১৭ জনের ১৬ জনই ফেল"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন