বরিশালে অবৈধ পলিথিন কারখানায় অভিযান, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
বরিশাল নগরীর কাউনিয়া বিসিক শিল্প এলাকায় অবৈধভাবে নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগ উৎপাদনের অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বিত দল।
অভিযানে ২৫০ কেজি পলিথিন জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো. রমিজ উদ্দিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ‘পিপি প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং’ নামের প্রতিষ্ঠানটিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর মুহাম্মদ ইশতি অভিযানে নেতৃত্ব দেন।
অভিযানসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি প্রিন্টিং ও প্যাকেজিংয়ের আড়ালে বিদেশ থেকে কাঁচামাল এনে অনুমোদন ছাড়াই নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগ তৈরি এবং বাজারজাত করছিল।
এ ছাড়া প্যাকেজিং পণ্য তৈরিতে ক্ষতিকর রং ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র ও অনুমোদনের ঘাটতির বিষয়টিও অভিযানে উঠে আসে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান
প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সদস্যরা অনুসন্ধান চালান। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তাঁরা ক্রেতা সেজে কারখানায় যান।
পরে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সিনিয়র টেকনিশিয়ান মো. মিলন জানান, প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশগত ছাড়পত্র থাকলেও প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।
পাশাপাশি পলিথিন উৎপাদনের কোনো অনুমতিও প্রতিষ্ঠানটির ছিল না। এসব কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়।
কাঁচামাল জব্দ, আরও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
অভিযানে তৈরি করা ২৫০ কেজি অবৈধ পলিথিন জব্দের পাশাপাশি কারখানার গুদামে থাকা আমদানিকৃত পলিপ্রোপিলিনের ৫০ বস্তাও জব্দ করা হয়েছে।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কাঁচামালগুলো বরিশাল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর মুহাম্মদ ইশতি জানান, প্রতিষ্ঠানের পরিবেশগত ছাড়পত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী উৎপাদিত পণ্যের নাম উল্লেখ থাকার কথা।
কিন্তু পরিদর্শনে অধিকাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নাম ও ঠিকানা পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া সরকার অনুমোদিত প্লাস্টিক প্যাকেজিং উপকরণও নির্ধারিত মাত্রার তুলনায় কম পাওয়া গেছে।
প্রতিষ্ঠানের ফায়ার লাইসেন্স নবায়ন করা ছিল না এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের শর্তও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
তিনি আরও জানান, আমদানিকৃত কাঁচামালের বৈধ ভ্যাট চালান বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দুই কার্যদিবসের মধ্যে দেখাতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
একই ধরনের অপরাধ ভবিষ্যতে ঘটলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছে।
0 Response to "বরিশালে অবৈধ পলিথিন কারখানায় অভিযান, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন