ঢাকায় ৬ রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চালু, শুরুতেই রুট বরাদ্দ নিয়ে অসন্তোষ
আজ থেকে নতুন ব্যবস্থায় বাস চলাচল
রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রোববার (১ নভেম্বর) থেকে ঢাকার ছয়টি রুটে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বেলা ১১টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যোগটির উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে কার্যক্রম শুরুর আগেই রুট বরাদ্দ নিয়ে কয়েকটি পরিবহন কোম্পানির মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট এলাকায় বাস পরিচালনা করলেও নতুন ব্যবস্থায় ভিন্ন রুট বরাদ্দ পাওয়ায় আপত্তি জানিয়েছে কোনো কোনো কোম্পানি। পাশাপাশি বাসের ফিটনেস ও নির্ধারিত রঙের মান নিয়েও জটিলতা রয়েছে।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) তথ্য অনুযায়ী, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমটির উদ্বোধন করতে পারেন।
রজনীগন্ধা পরিবহনের চালক মো. আমির জানান, তাঁদের কোম্পানি প্রায় ৩৬ বছর ধরে ফার্মগেট রুটে বাস চালাচ্ছে। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় তাঁদের কাঁচপুর রুট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য বাস মালিক সমিতির মাধ্যমে ডিটিসিএর কাছে আবেদন করা হয়েছে। সমস্যার সমাধান হলে নতুন ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে তাঁরা আগ্রহী।
ডিটিসিএর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মো. মশিউর রহমান জানিয়েছেন, রজনীগন্ধা, প্রজাপতি ও পরিস্থানসহ কয়েকটি কোম্পানি রুট বরাদ্দ নিয়ে সমস্যায় রয়েছে। কিছু বাসের ফিটনেস এবং নির্ধারিত রঙের মান নিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, কিছু কোম্পানি প্রথম দিন থেকেই রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমে যুক্ত হতে না পারলেও নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী উদ্যোগটি চালু করা হবে। পরিচালনাসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে।
ছয় রুটে ৮১৬ বাস চলাচলের পরিকল্পনা
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ছয়টি প্রধান রুটে মোট ৮১৬টি বাস পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯৬টি নন-এসি এবং ২০টি এসি বাস রয়েছে।
রুটভিত্তিক বাস বরাদ্দের পরিকল্পনা হলো—
শিববাড়ী–ঢাকেশ্বরী মন্দির রুটে ভিআইপি পরিবহনের ২৫৩টি বাস।
মিরপুর চিড়িয়াখানা–কেরানীগঞ্জ রুটে চিড়িয়াখানা সিটি বাসের ১৩৩টি বাস।
ঘাটারচর–ডেমরা রুটে রমজান আলী এন্টারপ্রাইজের ৭০টি বাস।
ঘাটারচর–কাঁচপুর রুটে ফোর স্টার বাস লাইনের ১৫০টি বাস।
ঘাটারচর–ধউর রুটে পিএনপি সিটি সার্ভিসের ১৯০টি বাস।
টঙ্গী–ঢাকেশ্বরী মন্দির রুটে ঢাকা চাকার ২০টি এসি বাস।
এ ছাড়া ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর ও উত্তরা এলাকায় তিনটি সার্কুলার রুটে আরও ৬০টি বাস পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি নির্ধারিত রুটে একটি কোম্পানির অধীনে বাস চলাচল করবে। এতে একই রুটে একাধিক পরিবহনের মধ্যে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা কমবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
৩২ করিডোরে বাস নেটওয়ার্ক সাজানোর পরিকল্পনা
কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা উদ্যোগ বাস্তবায়নে ডিটিসিএর সঙ্গে কাজ করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রাজধানীর বিদ্যমান বাস নেটওয়ার্ককে ৩২টি করিডোরে পুনর্বিন্যাস করার কথা রয়েছে। এসব করিডোরে নির্ধারিত বাসস্টপ, ইলেকট্রনিক টিকিটিং এবং জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো বাস চলাচলে শৃঙ্খলা আনা, যাত্রী ধরার অসুস্থ প্রতিযোগিতা কমানো এবং গণপরিবহনে সেবার মান উন্নত করা। তবে রুট বরাদ্দ নিয়ে আপত্তি এবং বাসের ফিটনেস ও রঙসংক্রান্ত জটিলতা সমাধান না হলে উদ্যোগটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে।
নতুন ব্যবস্থায় যাত্রীদের জন্য সেবা কতটা সহজ ও নিয়মতান্ত্রিক হয়, তা নির্ভর করবে নির্ধারিত রুটে বাস পরিচালনা, কোম্পানিগুলোর সমন্বয় এবং তদারকির কার্যকারিতার ওপর।
0 Response to "ঢাকায় ৬ রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চালু, শুরুতেই রুট বরাদ্দ নিয়ে অসন্তোষ"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন