সৌদিতে পাকিস্তানি সেনা, হুথি হামলার মধ্যেই মক্কা প্রতিরক্ষা জোট সক্রিয়
ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের চলমান সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যে সৌদি ভূখণ্ডে পাকিস্তানি সেনাদের উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানিয়েছেন, পাকিস্তানি সামরিক সদস্যরা সৌদি আরবে একাধিক সক্ষমতা ও ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাদের সঠিক সংখ্যা কিংবা নির্দিষ্ট অপারেশনাল দায়িত্ব প্রকাশ করা হয়নি।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনাদের উপস্থিতি নতুন কোনো বিষয় নয়। কয়েক দশক ধরেই বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতা ও ক্ষেত্রে পাকিস্তানি সদস্যরা দেশটিতে অবস্থান করছেন। তার বক্তব্য আসে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি গঠিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগের মধ্যেই।
গত আগস্টে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির আওতায় একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে অন্য সদস্যদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার নীতি রাখা হয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে তিন দেশ জোটের যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের বিষয়ে একমত হয়।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। ৮ অক্টোবর হুথিরা রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। এর আগে চলতি সপ্তাহেও সৌদি ভূখণ্ডে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক সম্পর্ক অবশ্য দীর্ঘদিনের। প্রশিক্ষণ, সামরিক পরামর্শ এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে কয়েক দশক ধরেই পাকিস্তানি সামরিক সদস্যরা সৌদিতে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানি সেনাদের উপস্থিতিকে সম্পূর্ণ নতুন মোতায়েন হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
আইএসপিআর মহাপরিচালকও জানিয়েছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা জোট হঠাৎ করে গড়ে ওঠেনি। পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক ও পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করেই এই কাঠামো তৈরি হয়েছে।
তবে পাকিস্তানি সেনাদের বর্তমান দায়িত্বের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষ করে তারা সরাসরি ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে পাকিস্তানি সামরিক কর্তৃপক্ষ কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি। বরং প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জোর দেওয়া হচ্ছে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর।
মক্কা জোটের সক্রিয়তা এমন এক সময়ে বাড়ছে, যখন ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়েছে এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও চাপের মুখে পড়েছে। ফলে পাকিস্তানি সেনাদের উপস্থিতি এবং তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আগামী দিনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকে নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।
0 Response to "সৌদিতে পাকিস্তানি সেনা, হুথি হামলার মধ্যেই মক্কা প্রতিরক্ষা জোট সক্রিয়"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন