ওপেনএআইয়ের কার্যালয়ে গোপন রেকর্ডিং যন্ত্র বসানোর অভিযোগ, সৌদি প্রকৌশলী গ্রেপ্তার

ওপেনএআইয়ের কার্যালয়ে গোপন রেকর্ডিং যন্ত্র বসানোর অভিযোগ, সৌদি প্রকৌশলী গ্রেপ্তার

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের কার্যালয়ে গোপনে কথোপকথন রেকর্ড করার যন্ত্র বসানোর অভিযোগে এক প্রকৌশলীকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আবদুল রহমান আলফোজান। তিনি সৌদি আরবের নাগরিক এবং ওপেনএআইয়ে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্যের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আলফোজানের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা এবং তিন বছরের তত্ত্বাবধানে মুক্তির সাজা হতে পারে। তবে এসব শাস্তি এখনো সম্ভাব্য; অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে তাকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, ৩৫ বছর বয়সী আলফোজান ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ওপেনএআইয়ে কাজ করছিলেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সান ফ্রান্সিসকোয় প্রতিষ্ঠানটির একটি ভবনের নির্বাহী সম্মেলনকক্ষে গোপন রেকর্ডিং যন্ত্রটি পাওয়া যায়। কক্ষটি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের জন্য ব্যবহৃত হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

টেলিভিশনের পেছনে লুকানো ছিল যন্ত্র

এফবিআইয়ের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, রেকর্ডিং যন্ত্রটি একটি টেলিভিশনের পেছনে থাকা ইউএসবি পোর্টে সংযুক্ত ছিল। টিস্যু পেপারের মধ্যে লুকিয়ে রাখা যন্ত্রটিতে মাইক্রোফোন ছিল এবং এটি ক্যামেরার সঙ্গেও সংযুক্ত করা সম্ভব ছিল। যন্ত্রটিতে সংরক্ষিত তথ্য এনক্রিপ্ট করা থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো পরীক্ষা করা যায়নি।

তদন্তের একপর্যায়ে আলফোজানের ব্যক্তিগত ব্যাগে একই ধরনের আরেকটি বিশেষভাবে তৈরি যন্ত্র খুঁজে পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র। এসব যন্ত্রের ব্যবহার, উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে অভিযুক্ত প্রকৌশলীর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত চলছে।

ওপেনএআই জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব এআই মডেল ব্যবহার করে তারা যন্ত্রটি কে স্থাপন করেছেন এবং সেটির উৎস শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মী কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরও রেকর্ডিং যন্ত্র বসিয়ে গোপনে বৈঠকের কথোপকথন ধারণ করার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে তাদের তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

এআইয়ের গোপন তথ্য সরানোর প্রমাণ পায়নি ওপেনএআই

ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও ওপেনএআই জানিয়েছে, অভিযুক্ত কর্মী প্রতিষ্ঠানের এআই মডেলের অভ্যন্তরীণ তথ্য, সোর্স কোড কিংবা গ্রাহকের তথ্য অননুমোদিতভাবে ব্যবহার করেছেন বা সরিয়ে নিয়েছেন—এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটি ওই কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে এবং পরবর্তী সময়ে বিষয়টি এফবিআইকে জানিয়েছে।

এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী সম্মেলনকক্ষে গোপন রেকর্ডিং যন্ত্র বসিয়ে উন্নত এআই প্রযুক্তি নিয়ে সংবেদনশীল আলোচনা ধারণের চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা এ ঘটনার উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য রেকর্ডিং এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যের বিষয়ে অনুসন্ধান করছেন।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আলফোজান ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় এক মাস ধরে একটি এআই প্রোডাক্টিভিটি এজেন্ট ব্যবহার করে সম্মেলনকক্ষের সময়সূচি ও সক্ষমতা সম্পর্কে তথ্য খুঁজেছিলেন। তদন্তকারীরা এই কার্যক্রমকে গোপন রেকর্ডিং যন্ত্র স্থাপনের অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচনা করছেন কি না, সে বিষয়ে মামলার বিস্তারিত তথ্যের ভিত্তিতে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

শিক্ষা ও কর্মজীবন নিয়েও তথ্য প্রকাশ

আলফোজানের লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতে পড়াশোনা করেছেন। এর আগে তিনি মেটা ও মাইক্রোসফটেও কাজ করেছেন বলে প্রোফাইলে উল্লেখ রয়েছে। তবে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পূর্ববর্তী কর্মজীবনের এসব তথ্য রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আলফোজান ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে অভিবাসন-সংক্রান্ত কোনো অনিয়মের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

এআই খাতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

ওপেনএআইয়ের কার্যালয়ে গোপন রেকর্ডিং যন্ত্র পাওয়ার ঘটনাটি উন্নত এআই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। এআই মডেলের নকশা, গবেষণা, সোর্স কোড এবং নতুন প্রযুক্তি নিয়ে বৈঠকের তথ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাণিজ্যিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্য অননুমোদিতভাবে সংগ্রহ বা প্রকাশিত হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এআই মডেল বা গ্রাহকের তথ্য চুরির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে ওপেনএআই জানিয়েছে। ফলে গোপন রেকর্ডিং যন্ত্র বসানোর অভিযোগ এবং প্রতিষ্ঠানের সংবেদনশীল তথ্য চুরির বিষয়টিকে আলাদা করে দেখা জরুরি। এফবিআইয়ের তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযোগের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

0 Response to "ওপেনএআইয়ের কার্যালয়ে গোপন রেকর্ডিং যন্ত্র বসানোর অভিযোগ, সৌদি প্রকৌশলী গ্রেপ্তার"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন