মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট ও নকল চাল বিক্রি, চট্টগ্রামে তিন প্রতিষ্ঠানকে ২১ হাজার টাকা জরিমানা

মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট ও নকল চাল বিক্রি, চট্টগ্রামে তিন প্রতিষ্ঠানকে ২১ হাজার টাকা জরিমানা

 

চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী বাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট ও রং মেশানো চানাচুর বিক্রি, নকল চাল বাজারজাত এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাজার তদারকির অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে এসব জরিমানা করা হয়। অভিযানে খাদ্যপণ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার যথাযথভাবে সংরক্ষণের বিষয়ে অনিয়ম শনাক্ত করা হয়।

অভিযানে এ বি এম ফুডকে মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট ও রং মেশানো চানাচুর বিক্রির দায়ে আট হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্যপণ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি এবং খাদ্যপণ্যে অননুমোদিত রং ব্যবহারের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

এ ছাড়া হাজী শফিউল বশর নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করার দায়ে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পণ্যের মূল্য সম্পর্কে ক্রেতাদের স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া এবং ব্যবসায়িক লেনদেনের নথিপত্র সংরক্ষণে নিয়ম মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি অভিযানে উঠে আসে।

অন্যদিকে, মেঘনা স্টোরকে নামবিহীন প্যাকেটে নকল চাল বিক্রি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করার দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্যাকেটজাত পণ্যের পরিচিতি ও মান সম্পর্কে ক্রেতাদের সঠিক তথ্য পাওয়া এবং পণ্য কেনাবেচায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা ভোক্তা অধিকার সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পৃথক অনিয়মের দায়ে আরোপ করা জরিমানার পরিমাণ যথাক্রমে আট হাজার, তিন হাজার ও ১০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার টাকা।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজারে ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বাজারে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের আইন ও বিধিবিধান মেনে চলা, মূল্যতালিকা দৃশ্যমান স্থানে রাখা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, খাদ্যপণ্যে অননুমোদিত উপাদান ব্যবহার এবং পণ্যের পরিচিতি নিয়ে প্রতারণার মতো অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বাজারে কেনাকাটার সময় পণ্যের উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, প্যাকেটের পরিচিতি এবং প্রদর্শিত মূল্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

0 Response to "মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট ও নকল চাল বিক্রি, চট্টগ্রামে তিন প্রতিষ্ঠানকে ২১ হাজার টাকা জরিমানা"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন