ম্যাকবুকের লোকেশন দিয়েও ব্যাগ উদ্ধার হয়নি, পুলিশের তৎপরতা নিয়ে জার্মান তরুণের সংশয়
বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে ব্যাগ চুরির ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন জার্মানির ১৮ বছর বয়সী তরুণ ক্রিল লেন্ডার উইবার। ব্যাগে থাকা ম্যাকবুকের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশকে তথ্য দিলেও এখনো সেটি উদ্ধার হয়নি। পুলিশের তৎপরতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে কালবেলা অনলাইনকে ক্রিল জানান, এর মাত্র এক ঘণ্টা আগেও তিনি ম্যাকবুকের লোকেশন পুলিশকে পাঠিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যাগটি ফেরত পাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।
ক্রিল জানিয়েছেন, রোববার গভীর রাতেই ঢাকা ছাড়ার কথা তাঁর। এর আগে ব্যাগে থাকা ল্যাপটপ ও ক্যামেরা ফিরে পাওয়ার আশা ক্রমেই কমে আসছে। তাঁর ভাষ্য, পুলিশ চেষ্টা করছে বলে তিনি আশা রাখতে চান, কিন্তু এখনো কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বিগ্ন।
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখতে বগুড়া থেকে ট্রেনে নাটোর রেলস্টেশনে পৌঁছান ক্রিল। স্টেশনের অপেক্ষাকক্ষে তাঁর ব্যাগ চুরি হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ক্রিলের বর্ণনা অনুযায়ী, হলুদ কটি পরা এক ব্যক্তি নিজেকে রেলওয়ের কর্মী পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে পরিচিত হন। পরে টিকিট কাটতে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তির কাছে সরল বিশ্বাসে ব্যাগ রেখে যান তিনি। ফিরে এসে দেখেন, ব্যাগসহ লোকটি উধাও।
ব্যাগে ম্যাকবুক, ক্যামেরা এবং ব্যক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ নথি থাকায় ভেঙে পড়েন এই তরুণ। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়ে তাঁকে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়। পরে স্থানীয় প্রশাসনের সদস্য ও সাংবাদিকেরা তাঁর পাশে দাঁড়ান।
ব্যাগ উদ্ধারে নাটোর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। রেলস্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এক সন্দেহভাজন যুবকের গতিবিধি শনাক্তের কথা জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এখনো ব্যাগ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর ক্রিলকে নাটোর থেকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়।
রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইন্সপেক্টর হাফিজুর রহমান জানান, ব্যাগ উদ্ধারে বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে রাতে রাজশাহীতে ব্যাগটির অবস্থান শনাক্ত হয়েছিল। পরে পরদিন সকালে নাটোরের আব্দুলপুরে সর্বশেষ অবস্থান পাওয়া যায়। এরপর আর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ওসি আরও জানান, সান্তাহার ও পাকশী রেলওয়ে পুলিশ, নাটোর জেলা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), ট্যুরিস্ট পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো উদ্ধার অভিযানে যুক্ত রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ অস্পষ্ট হওয়া এবং সন্দেহভাজনের দ্রুত স্থান পরিবর্তনের কারণে তদন্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে ক্রিলের দুর্দশার কথা জেনে মুক্তি মাহমুদ নামের এক ব্যক্তি তাঁকে নতুন একটি ম্যাকবুক উপহার দিয়েছেন। বাংলাদেশিদের এমন সহমর্মিতা ও আতিথেয়তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ক্রিল। তবে নতুন ল্যাপটপ পেয়েও পুরোনো ডিভাইসটির জন্য তাঁর মন খারাপ। কারণ, হারানো ম্যাকবুকে গুরুত্বপূর্ণ নথির পাশাপাশি থ্রিডি মডেল তৈরির কাজের প্রয়োজনীয় উপকরণ ছিল। উপহার পাওয়া ল্যাপটপে তাঁর সব কাজ করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
ক্রিলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভারত হয়ে পাকিস্তানে যাবেন তিনি। এরপর নিজ দেশ জার্মানিতে ফিরতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। বাংলাদেশ ছাড়ার আগে নিজের হারানো ব্যাগ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন এই তরুণ।
0 Response to "ম্যাকবুকের লোকেশন দিয়েও ব্যাগ উদ্ধার হয়নি, পুলিশের তৎপরতা নিয়ে জার্মান তরুণের সংশয়"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন