মিরপুরে রাড্ডা সেন্টারে হামলা: দ্রুত বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্ত চায় এবি পার্টি
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে দলটির নেতারা বলেন, নির্বাচিত সরকারের সময়েও এ ধরনের ‘মব সংস্কৃতি’ বন্ধ না হওয়া উদ্বেগজনক। তাদের ভাষ্য, কোনো বিরোধ বা দাবি থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের সুযোগ নেই।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে দুই শতাধিক মুখোশধারী হামলা চালায় বলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন। হামলাকারীরা নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর ও মালামাল লুট করে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্থাপনাটির কয়েকটি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলায় সরকারি ইপিআই টিকা, টিকাদানের রেজিস্টার, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সামগ্রী লুট হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।
এবি পার্টির নেতারা বলেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃসেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তাই এ ধরনের হামলার কারণে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
দলটির বক্তব্য, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জমি, লিজ বা মালিকানা নিয়ে বৈধ দাবি থাকলে তা আদালত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। এ ধরনের বিরোধকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর, লুটপাট বা দখলের চেষ্টা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
এবি পার্টি আরও বলেছে, ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা স্থানীয় নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তার সত্যতা যাচাই করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দলটি।
ঘটনার পর পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সোহেল, মো. জুয়েল, মো. জিহাদ হাসান ও মো. রাবিব। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিকে হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ এ ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্তে কোনো কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
এবি পার্টির নেতারা হামলায় জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, লুট হওয়া সরকারি টিকা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও নথিপত্র উদ্ধারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা ও টিকাদান কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।
দলটির অধ্যাপক ওহাব মিনার ও ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী পরিচয়ের মাধ্যমে আইনকে পাশ কাটানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়। রাড্ডা সেন্টারের কর্মী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
0 Response to "মিরপুরে রাড্ডা সেন্টারে হামলা: দ্রুত বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্ত চায় এবি পার্টি"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন