সার্বিয়ায় শীর্ষ দুই পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

সার্বিয়ায় শীর্ষ দুই পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

 


সার্বিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান মার্কো ক্রিকাককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন অপরাধ দমন বিভাগের প্রধান বোসকো সেকুলোভিচও। রোববার (১ নভেম্বর) বেলগ্রেডের উচ্চতর প্রসিকিউটর কার্যালয়ের নির্দেশে তাদের আটক করা হয়।

বেলগ্রেডের প্রধান প্রসিকিউটর নেনাদ স্তেফানোভিচ জানিয়েছেন, ‘সেনজাক’ নামে পরিচিত একটি হত্যা মামলার তদন্ত পরিচালনার সময় দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তের সময় সাবেক বেলগ্রেড পুলিশপ্রধান ভেসেলিন মিলিচের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দুই কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪৮ ঘণ্টা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ঘিরে অভিযোগ

চলতি বছরের মে মাসে বেলগ্রেডের একটি রেস্তোরাঁয় আলেকসান্দার নেশোভিচ নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তখনকার বেলগ্রেড পুলিশপ্রধান ভেসেলিন মিলিচকেও সন্দেহভাজন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরে অপরাধে সহায়তা ও তথ্য গোপনের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রায় দুই মাস হেফাজতে থাকার পর মিলিচ নিজেই মার্কো ক্রিকাক ও বোসকো সেকুলোভিচের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগ, তদন্তের সময় দুই কর্মকর্তা প্রসিকিউটরদের কাছে অসম্পূর্ণ ও ভুয়া প্রমাণ জমা দিয়েছিলেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন; আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

নির্বাচনের সঙ্গে যোগসূত্র অস্বীকার

সার্বিয়ায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই গ্রেপ্তার নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। দেশটির ছাত্র সংগঠনগুলো আগে থেকেই ক্রিকাকসহ কয়েকজন শীর্ষ পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করে আসছিল। বিক্ষোভ দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

তবে প্রসিকিউটর নেনাদ স্তেফানোভিচ স্পষ্ট করে বলেছেন, দুই পুলিশ কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বা নির্বাচনের ফলাফলের কোনো সম্পর্ক নেই। তার দাবি, মে মাস থেকেই এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত চলছিল এবং পরে ভেসেলিন মিলিচের করা অভিযোগ তদন্তের সঙ্গে যুক্ত হয়।

অন্যদিকে, ক্রিকাকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক সার্বিয়ার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর এখন নজর থাকবে।

0 Response to "সার্বিয়ায় শীর্ষ দুই পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন