৪৭ বছর পর পাইওনিয়ার ব্যাংকের জমির দলিল পেলেন ১১ ক্রেতা

৪৭ বছর পর পাইওনিয়ার ব্যাংকের জমির দলিল পেলেন ১১ ক্রেতা


 অবলুপ্তির প্রায় ৪৭ বছর পর পাইওনিয়ার ব্যাংকের সম্পদ নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে নিলামে বিক্রি করা জমির একটি অংশের মালিকানা বুঝে পেয়েছেন ১১ ক্রেতা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খেওড়া মৌজায় অবস্থিত ২৬৮ শতাংশ জমির দলিল তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে মালিকানা নিয়ে মামলা চলমান থাকায় আরও ১০৫ শতাংশ জমি এখনো হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।

রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্রেতাদের কাছে জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর-১ ড. মো. হাবিবুর রহমান এবং ডেপুটি গভর্নর-২ ড. মো. কবির আহমেদ।

নিলাম ও আদালতের নির্দেশনার পর দলিল হস্তান্তর

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কসবার খেওড়া মৌজায় অবস্থিত পাইওনিয়ার ব্যাংকের জমিগুলো গত ৩১ জানুয়ারি উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতারা জমিগুলো কেনেন। সুপ্রিম কোর্টের নিয়োগ করা একজন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

নিলাম সম্পন্ন হওয়ার পর কয়েকজন ব্যক্তি বিক্রি হওয়া জমির ১০৫ শতাংশের মালিকানা দাবি করে মামলা করেন। এ কারণে ওই অংশের জমির দলিল হস্তান্তর প্রক্রিয়া আটকে যায়।

অন্যদিকে, অবশিষ্ট ২৬৮ শতাংশ জমি ক্রেতাদের নামে নিবন্ধনের অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ওই জমি নিবন্ধনের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ১১ ক্রেতার কাছে দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে।

কীভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বে আসে জমিগুলো

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালের ২৬ জুলাই হাইকোর্টের আদেশে ১৭টি অবলুপ্ত ব্যাংকের অবসায়ক বা লিকুইডেটর হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৮ সালের ৪ আগস্ট আদালতের নির্দেশে এসব ব্যাংকের জমি বিক্রি, তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় অবসায়ককে।

সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবেই অবলুপ্ত পাইওনিয়ার ব্যাংকের জমিগুলো নিলামে বিক্রি করা হয়। তবে সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে মামলা থাকায় পুরো জমির নিষ্পত্তি এখনো শেষ হয়নি।

ব্রিটিশ ভারত আমলে কুমিল্লায় প্রধান কার্যালয় নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল পাইওনিয়ার ব্যাংক। ১৯৪৬ সালে ব্যাংকটির ৩১টি শাখা ছিল। পরে এর প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়। কলকাতা হাইকোর্টের আদেশে ১৯৪৯ সালের জুলাই মাসে ব্যাংকটির অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর থেকে পাওনা আদায় ও সম্পদ নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলতে থাকে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ব্যাংকটির কিছু সম্পদের নিষ্পত্তি এখনো চলমান রয়েছে

0 Response to "৪৭ বছর পর পাইওনিয়ার ব্যাংকের জমির দলিল পেলেন ১১ ক্রেতা"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন