রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুথিদের

রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুথিদের


 সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। বুধবার ভোরে রিয়াদ অঞ্চলে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্কবার্তা জারির পর গোষ্ঠীটি এ দাবি করে।

তবে হামলার দাবি এবং এর ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। সৌদি সিভিল ডিফেন্সের সতর্কবার্তা জারির কিছু সময় পরই তা প্রত্যাহার করা হয়।

সতর্কবার্তা জারির পর হামলার দাবি

বুধবার ভোরে সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানায়, রিয়াদ প্রদেশে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্ক করতে জাতীয় আগাম সতর্কবার্তা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরে অল্প সময়ের মধ্যেই সতর্কবার্তাটি তুলে নেওয়া হয়।

হুথিদের দাবি অনুযায়ী, তাদের লক্ষ্য ছিল রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে কি না, কিংবা সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি প্রতিহত করেছে কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া হামলার ফলাফল নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।

সৌদি অবকাঠামোকে ঘিরে উত্তেজনা

প্রদত্ত তথ্যে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুথিরা ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ ২০টির বেশি হামলা বা হামলার চেষ্টা চালিয়েছে। এর মধ্যে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও প্রাণঘাতী হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব ঘটনার তারিখ, ক্ষয়ক্ষতি ও বিমানবন্দর বন্ধ থাকার তথ্য প্রকাশের আগে নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই করা প্রয়োজন।

ইয়েমেনের রাজধানী সানা ২০১৪ সালে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে তাদের যুদ্ধ শুরু হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও আঞ্চলিক সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনে সৌদি আরব-ইয়েমেন সীমান্তে উত্তেজনা নতুন করে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হুথিদের সামরিক তৎপরতা শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির নৌপথ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যিক অবকাঠামো ঘিরেও তাদের অবস্থান আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দর বা জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটলে তা দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে হুথিদের হামলার দাবি, সৌদি কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রম সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্যের ওপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ

0 Response to "রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুথিদের"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন