সরকার ব্যর্থ হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি আখতার হোসেনের

সরকার ব্যর্থ হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি আখতার হোসেনের


 সরকারের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, সংস্কার ও বিচারপ্রক্রিয়ায় অগ্রগতি না থাকা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেছেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হতে থাকলে এনসিপি ও জাতীয় যুবশক্তি রাজপথে কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও তরুণদের কর্মসংস্থান’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় যুবশক্তি আয়োজিত জাতীয় যুব সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

আখতার হোসেনের অভিযোগ, সরকারের কাছে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য ও প্রতিবেদন থাকার পরও আওয়ামী লীগের মিছিল, বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঠেকানো যাচ্ছে না। এমনকি ঘটনার পরও জড়িতদের গ্রেপ্তারে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, এনসিপি নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ চায়। তবে সরকার যদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থ হতে থাকে, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

সংস্কার ও বিচার নিয়ে সরকারের সমালোচনা

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনীতিতে সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—এই তিনটি বিষয় সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন আখতার হোসেন। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও সংস্কার ও বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

গণভোটের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ৭০ শতাংশ ভোটার সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, সরকার গণভোটের রায়কে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে না। জুলাই সনদের রাজনৈতিক ও আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে জনগণের রায়কে অস্বীকার করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, জুলাই সনদের রাজনৈতিক ভিত্তি থাকলেও আইনি ভিত্তি নেই—এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর দাবি, সনদে স্বাক্ষরের সময়ই এনসিপি এর বাস্তবায়নের কার্যকর আইনি ভিত্তি তৈরির শর্ত দিয়েছিল।

জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আখতার হোসেন। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম পরিবর্তনের পরও বিচার কার্যক্রমে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। নিম্ন আদালতগুলোতেও সংশ্লিষ্ট মামলার অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এ ছাড়া অপরাধীদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তি ও সাজা কমানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট মামলার নাম বা নথি তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।

দলীয়করণ ও কর্মসংস্থান নিয়েও অভিযোগ

সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, করপোরেশন, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সরকার কাঠামোয় দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এনসিপির সদস্যসচিব। তাঁর দাবি, সিটি করপোরেশন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা কাজ করছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু প্রশাসক ভবিষ্যৎ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সরকারি পদে থেকে এ ধরনের প্রচারণা গণতান্ত্রিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসকদের অংশগ্রহণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট আইন করার আহ্বান জানান আখতার হোসেন।

তরুণদের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসার পরও সরকার নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করতে পারছে না। বরং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছাঁটাই এবং তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিক কমানোর ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেন তিনি।

সরকারি কর্ম কমিশনেও দলীয় নিয়োগের সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন আখতার হোসেন। তাঁর মতে, তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পরিবর্তে নিয়োগব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা জরুরি।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, জনগণের দাবি উপেক্ষা করে সরকার এগোতে চাইলে এনসিপি ও জাতীয় যুবশক্তি রাজপথে কর্মসূচি পালন করবে। সরকারের যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা অবস্থান নেবেন বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন

0 Response to "সরকার ব্যর্থ হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি আখতার হোসেনের"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন