সৌদি আরব থেকে অপ্রয়োজনীয় কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারকে সরানোর নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের
সৌদি আরবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে দেশটি থেকে অপ্রয়োজনীয় মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক হামলায় সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানির ঘটনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, সৌদি আরবে জরুরি নয় এমন দায়িত্বে নিয়োজিত মার্কিন সরকারি কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মী ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
হুথিদের হামলায় প্রাণহানি, বাড়ছে উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবে বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বুধবার দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই দিনে সৌদি আরবের শায়বাহ তেলক্ষেত্রেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ড্রোন প্রতিহত করার পর এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে সেখানে দুইজন নিহত এবং আরও দুইজন আহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন নেপালি ও একজন ফিলিপিনো নাগরিক ছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
এসব হামলার পর সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটির বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আরও হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়ে সতর্ক করেছে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।
অন্য উপসাগরীয় দেশ নিয়ে বিভ্রান্তি
সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কাতার ও বাহরাইনে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনের কর্মীদের পরিবারের সদস্যদেরও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে কিছু সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট স্পষ্ট করেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত নির্দেশটি কেবল সৌদি আরবে জরুরি নয় এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের জন্য প্রযোজ্য।
এদিকে, ইরানে আবারও যুদ্ধ শুরু করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা রয়েছে বলে নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে দাবি করা হয়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টিকে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।
সৌদি আরবকে ঘিরে সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা সামরিক তৎপরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।
0 Response to "সৌদি আরব থেকে অপ্রয়োজনীয় কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারকে সরানোর নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন