নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর আলোচনা, আপাতত হামলা চান না ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর আলোচনা, আপাতত হামলা চান না ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী


 ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২। বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে আবারও হামলা চালানোর বিষয়ে চাপ দিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বক্তব্য ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভিন্নতা রয়েছে।

চ্যানেল-১২-এর বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উঠে আসে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করতে আগ্রহী। তবে ট্রাম্প হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সম্মতি দিয়েছেন—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। বরং আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মার্কিন সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও হামলার অনুমোদন নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।

এদিকে বুধবার আর্মি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে হামলা চালানো তাঁদের জন্য সুবিধাজনক নয়। তাঁর এ বক্তব্য থেকে আপাতত নতুন হামলার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে কেন এ মুহূর্তে হামলা চালানো সুবিধাজনক নয়, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে আলোচনা ও প্রস্তুতির খবর থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক অভিযান শুরু হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

নির্বাচনের সময়সূচিও এ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নেসেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর নির্ধারিত। নির্বাচনের আগে ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন সামরিক সংঘাত শুরু হলে তা দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও আলোচনা চলছে। সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন লিকুড পার্টি ও মিত্ররা সরকার গঠন করতে পারলে বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গিভিরকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হবে না। বেন গিভির এ পদ পেতে আগ্রহী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নেতানিয়াহু বলেছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লিকুড পার্টির মধ্যেই থাকবে।

নেতানিয়াহুর এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, সম্ভাব্য সরকার গঠন ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও তাঁর অবস্থান স্পষ্ট। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সরকার কেমন হবে, তা ভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইরানের সামরিক প্রস্তুতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবে ইরান আগাম হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন দাবির পক্ষে নিশ্চিত তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং ইসরায়েলের অবস্থান—সবকিছুই পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে।

সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে ইরানকে ঘিরে নতুন সামরিক অভিযান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নিশ্চিত নয়। নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্যও ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্তত বর্তমান সময়ে নতুন হামলার উপযুক্ততা নিয়ে ইসরায়েলি নেতৃত্বের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে।

0 Response to "নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর আলোচনা, আপাতত হামলা চান না ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন