মাউশিতে যুগ্মসচিব পরিচয়ে তদবির করতে এসে আটক
সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) নিয়োগের তদবির করতে এসে আটক হয়েছেন আলমগীর শিকদার নামে এক ব্যক্তি। নিজেকে বিসিএসের ১৩তম ব্যাচের কর্মকর্তা ও এলজিইডি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব পরিচয় দিয়ে তিনি একটি বিদ্যালয়ের চার কর্মচারীর নিয়োগসংক্রান্ত তদবির করছিলেন বলে জানিয়েছে মাউশি সূত্র। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর পরিচয় ভুয়া বলে প্রমাণিত হওয়ার পর তাঁকে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মাউশি সূত্র জানায়, আলমগীর শিকদারের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সুলতানশাহী গ্রামে। তাঁর বাবার নাম ইনজিন শিকদার। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সুলতানশাহী কেকানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির চার কর্মচারীর নিয়োগের তদবির নিয়ে তিনি মাউশিতে আসেন। এ সময় অধিদপ্তরের শিক্ষা কর্মকর্তা (মাধ্যমিক-২) মওদুদ আহমদের সঙ্গে দেখা করে নিজেকে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন।
শুধু নিজের পরিচয় দিয়েই থেমে থাকেননি আলমগীর। তাঁর ছেলে সেনাবাহিনীতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে কর্মরত বলেও দাবি করেন তিনি। তবে তাঁর কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। পরে বুধবার তাঁকে আবার মাউশিতে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর দেওয়া পরিচয়ের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এরপর অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ তাঁকে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো. নাজমুল হক বলেন, আলমগীর শিকদার একটি তদবির নিয়ে গত কয়েক দিনে তিন থেকে চারবার অধিদপ্তরে এসেছেন। তাঁর আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বুধবার তাঁকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে পরিচয় ভুয়া বলে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।
মাউশি সূত্রের দাবি, আলমগীর শিকদার এর আগেও বিভিন্ন স্থানে তদবির করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। জুলাই গণহত্যাসংক্রান্ত একটি মামলায় তিনি আসামি বলেও সূত্রটি জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও মামলার নথি থেকে বিস্তারিত যাচাই করা প্রয়োজন।
এর আগে গত ২৭ জুলাই মাউশিতে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে। ওই দিন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের নাম ব্যবহার করে ভুয়া ডিও লেটার নিয়ে বদলির তদবির করতে এসে আটক হন মো. মুহিব্বুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে ৩৬তম বিসিএসের ক্যাডার এবং বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
ওই ব্যক্তির ব্যাগ থেকে বিভিন্ন সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ ও শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের বদলিসংক্রান্ত আবেদনপত্র, উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নামে ইস্যু করা ১৩টি ভুয়া ডিও লেটার, ভুয়া পরিচয়পত্র, এক লাখ টাকার একটি চেক, সোনালী ব্যাংকের একটি চেকবই, নম্বরের তালিকা ও বিপুলসংখ্যক ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার করা হয়েছিল। এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বদলিসংক্রান্ত জাল নথিপত্রও পাওয়া যায়।
পরপর এ ধরনের ঘটনা সরকারি দপ্তরে পরিচয় যাচাই ও তদবিরের নামে প্রতারণা প্রতিরোধের বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে আলমগীর শিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার বিস্তারিত আরও স্পষ্ট হবে।
0 Response to "মাউশিতে যুগ্মসচিব পরিচয়ে তদবির করতে এসে আটক"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন