রুশ তেলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ট্রাম্পের, স্বস্তিতে ভারত-চীন
রাশিয়ার তেল কেনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক প্রয়োগ শিথিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই সিদ্ধান্তে রাশিয়ার তেলের বৃহত্তম দুই ক্রেতা ভারত ও চীন স্বস্তি পেয়েছে। ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’-এর আওতায় রাশিয়ার ওপর প্রস্তাবিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকরের ক্ষেত্রে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।
সেপ্টেম্বর মাসে আইনে স্বাক্ষর করার পর শুক্রবার গভীর রাতে জারি করা এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় স্বার্থ’ বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসে জমা দেওয়া সনদেও তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্কের প্রয়োগ শিথিল করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে।
তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ রাশিয়ার ওপর প্রস্তাবিত শুল্ক স্থায়ীভাবে বাতিল করা নয়। বরং আপাতত এগুলোর বাস্তবায়ন স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভবিষ্যতে আবারও এসব শুল্ক কার্যকর করতে পারবেন।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় মস্কোর ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সিনেটর লিন্ডসে ও. গ্রাহাম এই আইন উত্থাপন করেছিলেন। আইনটিতে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনে এমন কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব ছিল। তালিকায় চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরির মতো দেশ রয়েছে।
তবে আইনটিতে শুল্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর করার বিধান ছিল না। শুল্ক আরোপ করা হবে কি না, এর হার কত হবে এবং কখন তা কার্যকর হবে—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতেই রাখা হয়েছিল।
ভারতের ওপর শুল্ক নিয়ে কী প্রভাব পড়তে পারে
রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের বিষয়টি আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য সম্পর্কে চাপ তৈরি করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানির কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। এর পাশাপাশি আরও ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক যুক্ত হয়েছিল।
তবে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য কাঠামোর অংশ হিসেবে অতিরিক্ত শুল্কগুলো প্রত্যাহার করা হয় এবং পারস্পরিক শুল্কের হার কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হয়। ভারত থেকে আমদানি করা কিছু পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শতাংশ শুল্কের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক ছাড়ের ফলে রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে প্রস্তাবিত নতুন শুল্ক আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে সেগুলো আরোপের সুযোগ থাকায় ভারতের বাণিজ্য পরিস্থিতি পুরোপুরি অনিশ্চয়তামুক্ত হয়নি।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার কাছাকাছি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আপাতত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক প্রয়োগ শিথিল হওয়ায় ভারত ও চীন স্বস্তি পেলেও ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের ওপর পরিস্থিতির পরিবর্তন নির্ভর করবে।
0 Response to "রুশ তেলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ট্রাম্পের, স্বস্তিতে ভারত-চীন"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন