তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চান বাবা

তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চান বাবা


 বিমানবাহিনীর চাকরিচ্যুত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার এখনো মামলা করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে মামলা করা বা না করার চেয়ে ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। সরকারের নিজস্ব আইন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা পোস্টকে দেওয়া বক্তব্যে তাহসিফের বাবা বলেন, পরিবার এখনো থানায় মামলা করবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। দিনের অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, থানায় গিয়ে মামলা করা হলো কি না, সেটিকে মূল বিষয় হিসেবে না দেখে সরকার যেন নিজস্ব আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। তার ছেলে দেশের একজন নাগরিক এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ছিলেন। তাই তার মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া এবং প্রকৃত কারণ সামনে আসা জরুরি।

দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তার জুনিয়র বন্ধু হিসেবে পরিচিত দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দীপ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য জানান।

পুলিশের একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাড়ির তৃতীয় তলা থেকে দীপকে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।

তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগের সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে তার সঙ্গে এক ব্যক্তিকে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে দীপ হিসেবে শনাক্ত করেছেন। ফুটেজ অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে তাদের দেখা হয়। এ সময় দুজন হাত মেলান। পরে তারা পৃথক দুটি মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যান।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীপের ফোন পাওয়ার পর বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। পরে দীপ তাদের জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে সমস্যা দেখা দেওয়ায় সেটি মেরামতের জন্য একটি ওয়ার্কশপে নেওয়া হয়েছিল। মেরামত শেষে তারা বাসায় ফিরে একসঙ্গে খাবার খান। এরপর দীপ চলে যান বলে পরিবারের সদস্যদের জানান তাহসিফ।

তবে তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া কিংবা তার মৃত্যুর ঘটনায় দীপের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয় তাহসিফের মরদেহ

গত ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ি ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে মরদেহটি তাহসিফ সৌরির বলে শনাক্ত করা হয়।

পরদিন বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। একই দিন বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এদিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিব জানিয়েছেন, তিনি তাহসিফের বাবাকে ফোন করে থানায় এসে মামলা করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তবে এখনো তিনি থানায় আসেননি। বাবা থানায় এলে মামলা দায়েরের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।

তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার বাবা আগে ছেলের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে হত্যার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছিলেন। এখন পরিবারের প্রধান প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ এবং এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে উদ্‌ঘাটিত হবে।

0 Response to "তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চান বাবা"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন