সানায় সৌদি জোটের হামলার প্রস্তুতি, পাল্টা হুমকিতে আরামকো ও রিয়াদের বিমানবন্দর
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের সম্ভাব্য বিমান হামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সানার একটি তেল স্থাপনার আশপাশে অবস্থানরত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সতর্কতা দিয়েছেন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি। এর পরপরই সৌদি আরবের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে সাধারণ মানুষকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। সানায় হামলা চালানো হলে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হুথিদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানায় বিমান হামলা চালালে সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত আরামকোর সদর দপ্তর, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদের আরামকোর তেল পরিশোধন স্থাপনায় হামলা চালানো হতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা এসব স্থাপনার আশপাশ থেকে মানুষকে দ্রুত সরে যেতে এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে সানায় সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিষয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি ওই এলাকার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট সময়, লক্ষ্যবস্তু ও অভিযান কতক্ষণ চলতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
গত কয়েক দিনে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর মধ্যে গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে হতাহতের এই সংখ্যা ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ওই ঘটনার পর সৌদি পক্ষ হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার রিয়াদের দিকে ড্রোন ছোড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, ড্রোনগুলো প্রতিহত করা হয়েছে। তবে সেগুলো কোন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল কিংবা কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বিস্তারিত জানাননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিমানবন্দর দেশটির অর্থনীতি, যোগাযোগ এবং জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব স্থাপনাকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সানার মতো জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সামরিক অভিযান হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা রয়েছে।
তবে হুথিদের পক্ষ থেকে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেই সৌদি আরবের উল্লিখিত স্থাপনাগুলোতে হামলা হয়েছে—এমনটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। একইভাবে সানায় বিমান হামলার সতর্কতা জারির অর্থও এই নয় যে অভিযান ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুই পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ওপর পরিস্থিতির আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
সানায় সম্ভাব্য সামরিক অভিযান এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টা হামলার হুমকিকে কেন্দ্র করে এখন পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে নজর রয়েছে। সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, বিমান চলাচল এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
0 Response to "সানায় সৌদি জোটের হামলার প্রস্তুতি, পাল্টা হুমকিতে আরামকো ও রিয়াদের বিমানবন্দর"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন