৭৮ কোটি টাকা সংগ্রহে আইপিওর আবেদন পার্কওয়ে প্যাকেজিংয়ের

৭৮ কোটি টাকা সংগ্রহে আইপিওর আবেদন পার্কওয়ে প্যাকেজিংয়ের


 পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ৭৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায় ডিবিএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পার্কওয়ে প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং পিএলসি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আইপিওর অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে কোম্পানিটি।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে ১ কোটি ৯৫ লাখ সাধারণ শেয়ার ইস্যু করে অর্থ সংগ্রহ করা হবে। প্রতিটি শেয়ারের প্রস্তাবিত মূল্য ৪০ টাকা। এর মধ্যে ১০ টাকা অভিহিত মূল্য এবং ৩০ টাকা অধিমূল্য বা প্রিমিয়াম। বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ অক্টোবর আইপিও অনুমোদনের আবেদন জমা দিয়েছে পার্কওয়ে প্যাকেজিং। এ জন্য খসড়া প্রসপেক্টাসসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্রও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

আইপিওর অর্থে কার্টন তৈরির কারখান

আইপিও থেকে সংগৃহীত পুরো অর্থ সহযোগী প্রতিষ্ঠান নেক্সট প্যাক লিমিটেডে ইকুইটি বিনিয়োগ হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে পার্কওয়ে প্যাকেজিং। এ অর্থ দিয়ে পৃথক স্থানে একটি আধুনিক ও সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ঢেউতোলা কাগজের কার্টন তৈরির কারখানা স্থাপন করা হবে।
কোম্পানিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন কারখানাটি চালু হলে প্যাকেজিং পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি উৎপাদনপ্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ব্যবসার পরিসর সম্প্রসারণে সহায়তা করবে এই বিনিয়োগ।
নতুন কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের প্রধান ক্রেতা হিসেবে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প বা আরএমজি খাতকে লক্ষ্য করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্যাকেজিং পণ্যের প্রয়োজন রয়েছে—এমন অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পণ্য সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির

উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য

পার্কওয়ে প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং পিএলসি দেশের প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং খাতে ব্যবসা পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজিং উপকরণ সরবরাহ করে আসছে। এ খাতে চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যবসার পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই নতুন কারখানায় বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইপিও আবেদনের নথি অনুযায়ী, ইস্যু ব্যবস্থাপকের সঙ্গে পরামর্শ করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ) বিধিমালা, ২০২৫ অনুসরণ করে শেয়ারের প্রস্তাবিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইপিও অনুমোদন পেয়ে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং খাতের প্রতিনিধিত্ব বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ডিবিএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে বিনিয়োগকারীদের জন্য।
তবে আইপিওর অনুমোদন, শেয়ার ইস্যু এবং অর্থ সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়া বিএসইসির যাচাই-বাছাই ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত প্রস্তাবিত আইপিওকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

0 Response to "৭৮ কোটি টাকা সংগ্রহে আইপিওর আবেদন পার্কওয়ে প্যাকেজিংয়ের"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন