নামাজের বৈঠকে কখন শাহাদাত আঙুল দিয়ে ইশারা করবেন?

নামাজের বৈঠকে কখন শাহাদাত আঙুল দিয়ে ইশারা করবেন?


 নামাজের বৈঠকে তাশাহুদ বা আত্তাহিয়্যাতু পাঠের সময় শাহাদাত আঙুল দিয়ে ইশারা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। তবে এ আঙুল কখন উঠাতে হবে, কতক্ষণ ইশারা করে রাখতে হবে এবং কখন নামাতে হবে—এসব বিষয়ে অনেক মুসল্লির মনে প্রশ্ন রয়েছে। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এ আমল সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। আলেমরাও হাদিসের ব্যাখ্যা ও ফিকহি মত অনুসারে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

শাহাদাত আঙুল দিয়ে ইশারা করার বিষয়ে হাদিস

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজে বসার সময় ডান হাত ডান হাঁটুর ওপর রাখতেন এবং শাহাদাত আঙুল দিয়ে ইশারা করতেন। এ বিষয়ে সহিহ মুসলিমে বর্ণনা রয়েছে।

আরেকটি বর্ণনায় হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.) তাঁর পিতার সূত্রে জানান, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাশাহুদের বৈঠকে ডান হাত ডান উরুর ওপর এবং বাঁ হাত বাঁ উরুর ওপর রাখতেন। তিনি শাহাদাত আঙুল দিয়ে ইশারা করতেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা দিয়ে একটি বৃত্তের মতো আকৃতি তৈরি করতেন। এ বর্ণনাও সহিহ মুসলিমে এসেছে।

সহিহ মুসলিমের আরেকটি বর্ণনায় হাতের আঙুলগুলো গুটিয়ে শাহাদাত আঙুল দিয়ে ইশারা করার কথা উল্লেখ রয়েছে। এসব বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, তাশাহুদের বৈঠকে ডান হাতের আঙুলের বিশেষ ভঙ্গি ও শাহাদাত আঙুলের ইশারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমলের অংশ।

তাশাহুদ পড়ার কোন পর্যায়ে আঙুল উঠাবেন?

জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমিনবাজার, ঢাকার প্রধান মুফতি মাওলানা লুৎফুর রহমান ফরায়েজির বক্তব্য অনুযায়ী, তাশাহুদে ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা’ অংশে পৌঁছালে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা দিয়ে বৃত্ত তৈরি করে শাহাদাত আঙুল দিয়ে ইশারা করতে হবে। তাঁর ব্যাখ্যায়, ‘ইল্লাল্লাহ’ বলার পর শাহাদাত আঙুল নামিয়ে নিতে হবে। অন্য আঙুলগুলো নির্ধারিত ভঙ্গিতে রাখা হবে।

তবে আঙুল তোলার নির্দিষ্ট সময়, নিচু করার পদ্ধতি এবং ইশারা স্থির রাখা বা নড়ানোর বিষয়ে আলেমদের মধ্যে ফিকহি মতভেদ রয়েছে। তাই নিজের অনুসৃত মাজহাবের নির্ভরযোগ্য আলেমের নির্দেশনা অনুসরণ করা যেতে পারে। এ বিষয়ে মতভেদ থাকলেও একে কেন্দ্র করে মুসল্লিদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করা উচিত নয়।

তাশাহুদের আরবি, উচ্চারণ ও অর্থ

আরবি:

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

উচ্চারণ: আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস-সালাওয়াতু ওয়াত-ত্বায়্যিবাতু; আস-সালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ; আস-সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন; আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।

অর্থ: সব সম্মান, সব ইবাদত ও পবিত্র বিষয় আল্লাহর জন্য। হে নবী, আপনার প্রতি শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।

নামাজের এ আমল পালনের ক্ষেত্রে হাদিসের বর্ণনা ও নির্ভরযোগ্য আলেমদের ব্যাখ্যা জানা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তাশাহুদের আরবি শুদ্ধভাবে শেখা এবং নামাজের অন্যান্য ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাহ যথাযথভাবে আদায়ের প্রতিও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

0 Response to "নামাজের বৈঠকে কখন শাহাদাত আঙুল দিয়ে ইশারা করবেন?"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন