ম্যানইউর টানা তৃতীয় হার, ৩৮ বছরের পুরোনো লজ্জার রেকর্ডের সামনে ইউনাইটেড
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দুর্দশা যেন কিছুতেই কাটছে না। চেলসির কাছে হেরে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা নয় ম্যাচে জয়হীন থাকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে ইংলিশ ক্লাবটি। ১৯৮৮ সালের অক্টোবর-নভেম্বরের পর এত দীর্ঘ সময় জয়হীন থাকেনি দলটি। চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের চতুর্থ পরাজয়ের পর পয়েন্ট তালিকার ১৬তম স্থানে নেমে গেছে ইউনাইটেড। রেলিগেশন জোন থেকে দলটির ব্যবধান এখন মাত্র এক পয়েন্ট।
এই হারের ফলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে দলের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রক্ষণভাগের ভুলগুলো নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে কোচ মাইকেল ক্যারিককে। পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হওয়ার পরও আরেকটি পরাজয়ে তাঁর অবস্থান আরও চাপে পড়েছে।
প্রথমার্ধের আশার পর দ্বিতীয়ার্ধে ছন্দপতন
ম্যাচের প্রথমার্ধে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পারফরম্যান্সে কিছুটা ইতিবাচক দিক ছিল। আক্রমণে সুযোগ তৈরি এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রাখার চেষ্টা করেছিল দলটি। অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেসও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে চেলসির গোলরক্ষক মাইক পেন্ডার্সকে পরাস্ত করতে পারেননি তিনি।
এদিকে প্রথমার্ধে ম্যাথিউস কুনহার হেড থেকে পাওয়া একটি গোল ভিএআর পরীক্ষার পর অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। ফলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও গোলের দেখা পায়নি ইউনাইটেড।
তবে বিরতির পর মাঠে নেমে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইউনাইটেডের রক্ষণভাগে দুর্বলতা দেখা দেয়। প্রতিপক্ষের আক্রমণে জায়গা তৈরি হওয়ার সুযোগে মর্গান রজার্স গোল করেন বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই গোলের পর থেকেই ম্যাচে ইউনাইটেডের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে।
ক্যারিকও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দলের ছন্দ হারানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, প্রথমার্ধে খেলোয়াড়েরা ভালো অবস্থানে থাকলেও বিরতির পর দল প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারেনি।
ম্যাচ শেষে ক্যারিক বলেন, দল আরও কিছু সুযোগ তৈরি করতে পারত। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। বিশেষ করে গোল হজমের ধরন এবং পেনাল্টি পাওয়ার ঘটনা দলকে কঠিন অবস্থায় ফেলে দেয়।
লাল কার্ড ও পেনাল্টিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চেলসির হাতে
দ্বিতীয়ার্ধে ইউনাইটেডের বিপদ আরও বাড়ে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের লাল কার্ডে। বক্সের ভেতরে চেলসির ওয়েসলি ফোফানার মুখে কনুই দিয়ে আঘাত করার ঘটনায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সহায়তায় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। পাশাপাশি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারকে।
এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফেরা কোল পালমার পেনাল্টি থেকে গোল করে চেলসির পক্ষে ব্যবধান বাড়ান। এই ঘটনার পর ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আরও কঠিন হয়ে পড়ে ইউনাইটেডের জন্য।
লিসান্দ্রোর লাল কার্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্যারিক জানান, তিনি তখনো ঘটনাটি পুনরায় দেখেননি। খেলোয়াড়টির ওপর তিনি হতাশ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সরাসরি না বলেন ইউনাইটেড কোচ।
ম্যাচে চেলসির আরও গোল পাওয়ার সুযোগ ছিল। এস্তেভাওর একটি প্রচেষ্টা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। অন্যদিকে শেষ দিকে ব্রায়ান এমবেউমোর শট গোলবারে লেগে ফিরে আসে। ফলে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি ইউনাইটেড।
জয়হীন ইউনাইটেড, চাপে ক্যারিক
একের পর এক ম্যাচে জয় না পাওয়ায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মৌসুম ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা নয় ম্যাচে জয়হীন থাকার পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগেও পয়েন্ট হারাচ্ছে দলটি। বর্তমানে ১৬তম স্থানে থাকা ইউনাইটেড রেলিগেশন অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
অন্যদিকে এই জয়ের ফলে চেলসি নয় ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে।
ইউনাইটেডের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত জয়ের ধারায় ফেরা এবং রক্ষণভাগের ভুলগুলো কাটিয়ে ওঠা। অন্যথায় মৌসুমের বাকি অংশে পয়েন্ট তালিকায় আরও পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
0 Response to "ম্যানইউর টানা তৃতীয় হার, ৩৮ বছরের পুরোনো লজ্জার রেকর্ডের সামনে ইউনাইটেড"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন