এক ক্যাচেই ইতিহাসে লিটন দাস! ৫৩ ও ১০২ রানের পর উইকেটের পেছনে বিশ্বরেকর্ডের কীর্তি
একটি কঠিন ক্যাচ, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য বড় সাফল্য, আর সেই সঙ্গে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখানোর সুযোগ—আবুধাবি টেস্টে সবকিছুর কেন্দ্রে বাংলাদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস। আফগানিস্তানের ইকরাম আলিখিলকে ফিরিয়ে দিতে উইকেটের পেছনে দারুণ ক্ষিপ্রতায় ক্যাচ নেন তিনি। বলটি শরীর থেকে বেশ দূরে চলে যাচ্ছিল, কিন্তু ঝাঁপিয়ে পড়ে সেটি তালুবন্দি করেন লিটন। বোলার ছিলেন এবাদত হোসেন।
এই ক্যাচের মধ্য দিয়ে ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রেকথ্রু আসে। একই সঙ্গে ম্যাচের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্যাট হাতে দুই ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান এবং উইকেটের পেছনে ৯টি ডিসমিসালের সমন্বয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন কীর্তি গড়েছেন লিটন। প্রথম ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৫৩ রান, আর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ১০২। ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং—দুই ভূমিকাতেই তাঁর অবদান ম্যাচটিকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।
এর আগে এমন সমন্বয়ের ক্ষেত্রে রেকর্ডটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক উইকেটকিপার ডেনিস লিন্ডসের। ১৯৬৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোহানেসবার্গ টেস্টে দুই ইনিংসেই অন্তত অর্ধশতক করার পাশাপাশি উইকেটের পেছনে ৮টি ডিসমিসাল করেছিলেন তিনি। লিটনের ৯টি ডিসমিসাল সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে বলে ম্যাচের পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হচ্ছে।
লিটনের এই ক্যাচ অবশ্য চলতি টেস্টে তাঁর প্রথম আলোচিত মুহূর্ত নয়। প্রথম ইনিংসেও এবাদত হোসেনের বলে প্রথম স্লিপের কাছাকাছি দিক থেকে ছুটে গিয়ে ক্যাচ ধরে নজর কেড়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে আবারও এবাদতের বলে কঠিন ক্যাচ নিয়ে আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে ফেরাতে ভূমিকা রাখলেন এই উইকেটকিপার। একই বোলারের বলে দুই ইনিংসেই তাঁর এমন অবদান বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য বাড়তি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
আফগানিস্তানের জুটি ভাঙল ৬৬ রানে
বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আগের দিন আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৩২ রান করে। পঞ্চম ও শেষ দিনে মাঠে নামার আগে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল আরও ৩৪৭ রান। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট তুলে নেওয়া।
লক্ষ্য অনেক বড় হলেও আফগান ব্যাটাররা বেশ দৃঢ়ভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করে একটি জুটিও গড়ে তুলেছিল তারা। মাঝপথে হাশমতউল্লাহ শহীদি পায়ে আঘাত পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়লেও আফগানিস্তানের লড়াই থেমে থাকেনি। ব্যাটাররা ধৈর্য ধরে বাংলাদেশের বোলিং সামলানোর চেষ্টা করছিলেন।
এমন পরিস্থিতিতে ইকরাম আলিখিলের উইকেট বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাঁর বিদায়ের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ৬৬ রানের জুটি ভেঙে যায় এবং দলটি ২০২ রানে চতুর্থ উইকেট হারায়। ম্যাচের এই পর্যায়ে উইকেটটি বাংলাদেশের বোলারদের নতুন করে চাপ তৈরির সুযোগ করে দেয়।
দ্বিতীয় ইনিংসে এবাদত হোসেন তখন পর্যন্ত ৩টি উইকেট নিয়েছেন, আর হাসান মাহমুদের শিকার ১ উইকেট। বোলারদের পাশাপাশি লিটনের উইকেটকিপিংও বাংলাদেশের জন্য বড় ভূমিকা রাখছিল।
জয়ের পথে বাংলাদেশ, ড্রয়ের আশাও ছাড়ছে না আফগানিস্তান
ম্যাচের ওই মুহূর্তে বাংলাদেশের সামনে জয় নিশ্চিত করতে আরও ৬ উইকেট নেওয়ার লক্ষ্য ছিল। তবে আফগানিস্তানের সামনে বড় লক্ষ্য তাড়া করার পাশাপাশি ম্যাচ বাঁচিয়ে ড্র করার সম্ভাবনাও ছিল। শেষ দিনের বাকি সময়, ব্যাটারদের প্রতিরোধ এবং বাংলাদেশের বোলারদের সাফল্যের ওপর নির্ভর করছিল ম্যাচের পরিণতি।
লিটন দাসের ব্যাটিং ও উইকেটকিপিংয়ের সমন্বিত পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক। প্রথম ইনিংসে ৫৩ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২ রান করার পর উইকেটের পেছনে ধারাবাহিকভাবে অবদান রেখে তিনি দেখিয়েছেন, একজন উইকেটকিপার-ব্যাটার কীভাবে একই ম্যাচে দুই বিভাগেই দলের জন্য কার্যকর হতে পারেন।
তবে রেকর্ডের তাৎপর্য যেমন বড়, তেমনি ম্যাচের চূড়ান্ত ফলও গুরুত্বপূর্ণ। আফগানিস্তানের প্রতিরোধ ভাঙতে বাংলাদেশের বোলারদের আরও উইকেট নিতে হতো, আর আফগান ব্যাটারদের লক্ষ্য ছিল যতটা সম্ভব সময় কাটিয়ে ম্যাচ ড্রয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া। সেই লড়াইয়ের মধ্যেই ইকরাম আলিখিলের ক্যাচটি হয়ে ওঠে আলোচিত মুহূর্ত।
লিটনের এই পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান ও রেকর্ডের দাবি প্রকাশের আগে ম্যাচের নির্ভরযোগ্য স্কোরকার্ড এবং টেস্ট রেকর্ডের তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ৯টি ডিসমিসালের হিসাব, ডেনিস লিন্ডসের আগের রেকর্ড এবং ম্যাচের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত হলে প্রতিবেদনটি আরও নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করা যাবে।
0 Response to "এক ক্যাচেই ইতিহাসে লিটন দাস! ৫৩ ও ১০২ রানের পর উইকেটের পেছনে বিশ্বরেকর্ডের কীর্তি"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন