লালমাইয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ

লালমাইয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ



 কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার ভুশ্চি বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন পথচারীও রয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লালমাই বাজারে র‍্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ভুশ্চি বাজার এলাকায় আলমগীর হোসেন নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে উপজেলা বিএনপির একটি পক্ষের বিরুদ্ধে।

পরে সন্ধ্যায় র‍্যালি ও সমাবেশ শেষে ফেরার পথে একই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে আবার উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়েও হামলার ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ উদ্দিন ও শামীম ইকবাল এবং যুবদল কর্মী মো. মামুন ও সাদ্দাম হোসেনসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ছাড়া দুই পথচারীও আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহতদের প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে কয়েকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের কারও অবস্থা গুরুতর নয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।


দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য


লালমাই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোজাম্মেল হক অভিযোগ করেন, কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সমর্থক নেতা-কর্মীরা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে অংশ নিতে লালমাইয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। ভুশ্চি বাজার এলাকায় পৌঁছালে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সমর্থক নেতা-কর্মীরা ওই মিছিলে হামলা চালান বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে লালমাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী মীর পিন্টু বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে কয়েকজন সেখানে এসে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং সংঘর্ষ ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা বিএনপির বিরোধের পেছনে যে দ্বন্দ্ব


স্থানীয় বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। একটি পক্ষ কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অন্য পক্ষ কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার অনুসারী।

সম্প্রতি নবগঠিত লালমাই উপজেলা বাদ দেওয়া কিংবা বহাল রাখার প্রশ্নে দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। এ নিয়ে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও উত্তেজনা দেখা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে উভয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা কেউই কথা বলতে রাজি হননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভুশ্চি বাজারের সংঘর্ষের ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

0 Response to "লালমাইয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন