৫০০ টাকার বাজিতে জীবিত শালিক খাওয়ার অভিযোগ
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ৫০০ টাকা বাজি ধরে জীবিত শালিক পাখি খাওয়ার অভিযোগে সাদুল্লাহ (৫৭) নামে এক অটোরিকশাচালককে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কোয়ালীকান্দী মধ্যপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
আটক সাদুল্লাহ কোয়ালীকান্দী মধ্যপাড়া এলাকার হাফিজলের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক। মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে মাদারগঞ্জ উপজেলার কোয়ালীকান্দী বাজারে কয়েকজনের সঙ্গে ৫০০ টাকা বাজি ধরেন সাদুল্লাহ। বাজির শর্ত ছিল, তিনি একটি জীবিত শালিক পাখি কাঁচা খাবেন। একপর্যায়ে তিনি পাখিটি খেয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরদিন বুধবার সকালে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল হোসেন জানান, সকালে ফেসবুকে জীবিত পাখি খাওয়ার একটি ভিডিও দেখেন তিনি। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে পাখিটির পা ও ডানা মুচড়ে ভেঙে ফেলতে দেখা যায়। এ সময় পাখিটি নড়াচড়া করছিল। পরে পাখিটি ছিঁড়ে খাওয়ার দৃশ্যও ভিডিওতে দেখা যায় বলে তিনি দাবি করেন। ঘটনাটি দেখতে সেখানে অনেক মানুষের ভিড় হয়েছিল এবং উপস্থিত কয়েকজনকে উল্লাস করতেও দেখা যায় বলে জানান তিনি। এমন ঘটনায় প্রাণীর প্রতি মানুষের সহমর্মিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই স্থানীয় বাসিন্দা।
জেলার পরিবেশ ও বন্যপ্রাণি সংরক্ষণে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিহঙ্গ’-এর সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রবিন ঘটনাটির সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, সহজলভ্য খাবারের বিকল্প থাকা সত্ত্বেও একটি নিরীহ বন্যপ্রাণীকে জীবিত অবস্থায় খাওয়ার মতো ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগও জরুরি।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশীষ রায় জানান, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাদুল্লাহকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে শেরপুর বন বিভাগের কর্মকর্তাদের খবর দেওয়া হয়েছে। তাঁরা থানায় এলে আটক ব্যক্তিকে তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাদুল্লাহর সঙ্গে বাজি ধরেছিলেন এমন কাউকে এ ঘটনায় আটক করা হয়নি। তবে জীবিত শালিক খাওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
ঘটনাটি বন্যপ্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ঘটনার প্রচার এবং জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা রোধে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
0 Response to "৫০০ টাকার বাজিতে জীবিত শালিক খাওয়ার অভিযোগ"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন