ইরানের অর্থায়নে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে হিজবুল্লাহ, নতুন সংঘাতের প্রস্তুতির খবর
ইসরায়েলের সঙ্গে আবারও সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কায় লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। গত কয়েক মাসে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ, বিস্ফোরক মজুদ এবং ড্রোন তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ প্রস্তুতির জন্য ইরান থেকে কয়েক কোটি ডলার অর্থ সহায়তা পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা। তাঁদের বক্তব্যের ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ার পরও হিজবুল্লাহ নিজেদের সামরিক কার্যক্রম পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। সংঘাতের বিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোষ্ঠীটি অস্ত্র ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। তবে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে হিজবুল্লাহ সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে গোষ্ঠীটি স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেয়নি।
অস্ত্র ও ড্রোন সংগ্রহে গুরুত্ব
লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনীর দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ বিস্ফোরক সংগ্রহের পাশাপাশি ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাতে সক্ষম ড্রোন তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র এবং গোষ্ঠীটির ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ইরান থেকে কয়েক কোটি ডলার পেয়েছে হিজবুল্লাহ।
এ ছাড়া লেবাননের শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর সহায়তায় তেহরান থেকে প্রায় ২০ কোটি ডলার পাওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই অর্থের পরিমাণ ও ব্যবহার সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনের সূত্রগুলোর বক্তব্যের বাইরে এখানে পাওয়া যায়নি।
চলতি মাসে লেবাননের কর্তৃপক্ষ কিছু বিস্ফোরক জব্দ করার পর হিজবুল্লাহ সেগুলো নিজেদের বলে স্বীকার করেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। গোষ্ঠীটির বক্তব্য অনুযায়ী, বিস্ফোরকগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল। হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তা ও লেবাননের এক নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, এগুলো বিস্ফোরকবাহী ড্রোনে ব্যবহারের উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছিল।
ক্ষতিগ্রস্ত কমান্ডব্যবস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির কারণে হিজবুল্লাহর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পুনর্গঠনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে বিনত জুবাইল শহর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলি আল-তাহের পাহাড়ি শৈলশিরা।
লেবাননের একটি সূত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ছোট ছোট দলে অভিযান পরিচালনা এবং ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সীমিতভাবে ব্যবহারের কৌশলের কারণে কিছু ফ্রন্টে হিজবুল্লাহর ইউনিটগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। এতে দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত ইসরায়েলি সামরিক ব্যবস্থা, অস্ত্রসজ্জিত ড্রোন এবং রিমোট-নিয়ন্ত্রিত সশস্ত্র যানবাহনের মোকাবিলায় তাদের সমস্যায় পড়তে হয় বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তবে হিজবুল্লাহ তাদের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ভেঙে পড়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে গোষ্ঠীটির গণমাধ্যম দপ্তর বলেছে, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারত্বের কারণে প্রতিরোধ গড়ে তোলা তাদের বৈধ অধিকার।
নতুন সংঘাত নিয়ে অনিশ্চয়তা
হিজবুল্লাহর গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, লেবাননে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য ইসরায়েলি নেতারা যেন কোনো অজুহাত না পান, সে বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছে। নতুন সংঘাত শুরু হলে নিজেদের সমর্থক ও সাধারণ মানুষ আবারও বাস্তুচ্যুত হতে পারেন—এমন উদ্বেগও গোষ্ঠীটির বক্তব্যে উঠে এসেছে।
সূত্রগুলোর দাবি, হিজবুল্লাহ এখনো অস্ত্রভান্ডার ও যোদ্ধাদের পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেনি; অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহের কাজ চলছে। তবে এসব প্রস্তুতির পরিণতি কী হবে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত আবার শুরু হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
0 Response to "ইরানের অর্থায়নে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে হিজবুল্লাহ, নতুন সংঘাতের প্রস্তুতির খবর"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন