যুবলীগ নেতার ফুলেল শুভেচ্ছা নিলেন বিএনপির এমপি ও জেলা সভাপতি, শুরু আলোচনা

যুবলীগ নেতার ফুলেল শুভেচ্ছা নিলেন বিএনপির এমপি ও জেলা সভাপতি, শুরু আলোচনা


 গাইবান্ধায় যুবলীগ নেতা এটিএম রাশেদুজ্জামান রোকনের কাছ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মইনুল হাসান সাদিক। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ফুলছড়ি উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত রাশেদুজ্জামান রোকনের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের সাক্ষাৎ ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ের বিষয়টি সামনে আসার পর দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, অতীতে রাজনৈতিক হয়রানি ও মামলার শিকার বিএনপি নেতাকর্মীদের অনেকেই যেখানে নেতাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান না, সেখানে যুবলীগ নেতার এমন সাক্ষাৎ কীভাবে হলো, তা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

সংসদ সদস্যের অভিযোগ ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন

সংসদ সদস্য মমতাজ আলো জানিয়েছেন, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুলই ওই যুবলীগ নেতাকে তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু ও জেলা বিএনপির সভাপতির কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনে কারণ দর্শানোর নোটিশ, ঘটনার তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

আবেদনপত্রে মমতাজ আলো উল্লেখ করেন, গত ১৮ ও ১৯ অক্টোবর গাইবান্ধা সফরের সময় তিনি বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, শাড়ি বিতরণ এবং নদীভাঙনকবলিত এলাকায় চাল বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সফরকালে গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাকে একজন ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। মমতাজ আলোর অভিযোগ, ওই ব্যক্তির আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্পষ্ট না করে তাকে কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে পরিচয় করানো হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট কলেজ জাতীয়করণের বিষয়টিও উত্থাপন করা হয়েছিল বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি।

মমতাজ আলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সাক্ষাতের সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পাশে উপস্থিত থেকে পুষ্পস্তবক প্রদান ও ছবি তোলেন। তার মতে, দলের দায়িত্বশীল নেতার মাধ্যমে এমন ঘটনা রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর এবং এতে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

জেলা বিএনপির সভাপতির বক্তব্য

অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মইনুল হাসান সাদিকের কার্যালয়েও যুবলীগ নেতা রাশেদুজ্জামান রোকন ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ বিষয়ে কালবেলাকে দেওয়া বক্তব্যে মইনুল হাসান সাদিক বলেন, ওই ব্যক্তি কঞ্চিপাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ পরিচয়ে তার চেম্বারে এসেছিলেন। তিনি তাকে আগে থেকে চিনতেন না। কলেজের একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতেই ওই ব্যক্তি এসেছিলেন বলে জানান তিনি।

জেলা বিএনপির সভাপতি আরও বলেন, ওই ব্যক্তির সঙ্গে কলেজের শিক্ষক, বিএনপি ও যুবদলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষ্য, কে যুবলীগ বা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তা সবার ক্ষেত্রে আলাদাভাবে চেনা সম্ভব নয়।

এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল এবং অনেককে কারাভোগ করতে হয়েছে। তাদের দাবি, সেই অতীতের প্রেক্ষাপটে যুবলীগ নেতার সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের বিষয়টি প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট যুবলীগ নেতার বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে দলীয় পর্যায়ে তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি

0 Response to "যুবলীগ নেতার ফুলেল শুভেচ্ছা নিলেন বিএনপির এমপি ও জেলা সভাপতি, শুরু আলোচনা"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন