সন্তানের আকিকার গোশত রান্না করে খাওয়ানো যাবে, নাকি ?
সন্তান জন্মগ্রহণের পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যে পশু জবাই করা হয়, তাকে আকিকা বলা হয়। ইসলামে আকিকাকে মুস্তাহাব আমল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আকিকার মাধ্যমে নবজাতকের জন্ম উপলক্ষে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। এ উপলক্ষে পশু জবাই করার পাশাপাশি সন্তানের মাথার চুল মুণ্ডন ও নাম রাখার বিষয়টিও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘সন্তানের জন্য আকিকা করতে হয়। সুতরাং তোমরা তার পক্ষ থেকে জবাই করো এবং তার অশুচি (চুল, নখ ইত্যাদি) দূর করে দাও।’ (সহিহ বুখারি: ২/৮২২—উদ্ধৃত সূত্র অনুযায়ী)
আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক নবজাতক তার আকিকার সঙ্গে আবদ্ধ থাকে। তার জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে আকিকার পশু জবাই করা হবে, তার মাথার চুল মুণ্ডন করা হবে এবং তার নাম রাখা হবে।’ (সুনানে আবু দাউদ: ২৮৩৮)
আকিকার পশু জবাই করার পর এর গোশত কীভাবে ব্যবহার করা উত্তম, তা নিয়েও ইসলামি জ্ঞানীদের আলোচনা রয়েছে। গোশত রান্না করে মানুষকে খাওয়ানো যায়, আবার কাঁচা গোশতও উপহার হিসেবে দেওয়া যায়। তবে সাধারণ অবস্থায় কাঁচা গোশত বিতরণের পরিবর্তে রান্না করে আত্মীয়স্বজন ও অন্যদের খাওয়ানোকে উত্তম বলেছেন একাধিক ইসলামি ফকিহ।
আকিকার গোশত রান্না করে খাওয়ানোর বিধান
উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.) আকিকার গোশত সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, গোশত টুকরো টুকরো করে কেটে রান্না করবে, নিজে খাবে এবং অন্যদেরও খাওয়াবে। এ বক্তব্যের সূত্র হিসেবে মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহর ২৪৭৪৪ নম্বর বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলামি ফিকহের বিশিষ্ট আলেম ইমাম নববী (রহ.) তাঁর ‘আল-মাজমূ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, আকিকার গোশত কাঁচা সদকা না করে রান্না করে খাওয়ানো মুস্তাহাব। গ্রন্থটির ৮ম খণ্ডের ৪১০ নম্বর পৃষ্ঠায় এ বক্তব্য পাওয়া যায় বলে উদ্ধৃত সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
একইভাবে ইবনে কুদামা (রহ.) তাঁর ‘আল-মুগনী’ গ্রন্থে আকিকার গোশত রান্না করে আত্মীয়স্বজনকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানোকে উত্তম বলেছেন। তাঁর বক্তব্যের সূত্র হিসেবে গ্রন্থটির ১৩তম খণ্ডের ৪০০ নম্বর পৃষ্ঠা উল্লেখ করা হয়েছে।
নিজেরা খাওয়া ও অন্যদের খাওয়ানোর সুযোগ
আকিকার গোশত শুধু অন্যদের মধ্যে বিতরণ করতেই হবে, এমন নয়। উদ্ধৃত বর্ণনা ও আলেমদের বক্তব্য অনুযায়ী, এ গোশত থেকে নিজেরা খাওয়া, আত্মীয়স্বজনকে খাওয়ানো এবং অন্যদের উপহার দেওয়া—এসবের সুযোগ রয়েছে। রান্না করে খাওয়ানোর মাধ্যমে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের একসঙ্গে আপ্যায়ন করার সুযোগও তৈরি হয়।
তবে আকিকার গোশত কাঁচা বিতরণ করা যাবে না—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। উদ্ধৃত বক্তব্যগুলোতে রান্না করে খাওয়ানোকে উত্তম বা মুস্তাহাব বলা হয়েছে; কাঁচা গোশত দেওয়া নিষিদ্ধ বলা হয়নি। তাই আকিকার গোশত রান্না করে খাওয়ানো যেমন একটি উত্তম পদ্ধতি, তেমনি প্রয়োজন অনুযায়ী কাঁচা গোশত উপহার দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
0 Response to "সন্তানের আকিকার গোশত রান্না করে খাওয়ানো যাবে, নাকি ? "
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন