গেতাফের বিপক্ষে গোল করেই ফ্লিকের আস্থা অর্জন
বার্সেলোনার জার্সিতে শুরুর একাদশে প্রথম সুযোগ পেয়েই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল জেসুস। গেতাফের বিপক্ষে গোল করার পাশাপাশি আক্রমণভাগে তার সক্রিয় উপস্থিতি নজর কেড়েছে কোচ হান্সি ফ্লিকের। ফলে আসন্ন চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচেও তাকে প্রথম একাদশে রাখার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
গোলের পাশাপাশি নজর কেড়েছে খেলার ধরন
লা লিগায় রাফিনিয়ার অনুপস্থিতিতে গেতাফের বিপক্ষে জেসুসকে শুরুর একাদশে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন ফ্লিক। মাঠে নেমে সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের সঙ্গে তার বোঝাপড়া এবং আক্রমণ তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা কোচের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করার ইঙ্গিত দিয়েছে।
জেসুসের পারফরম্যান্সের ইতিবাচক দিক হলো, তিনি শুধু গোল করার অপেক্ষায় থাকেন না; বরং আক্রমণের বিভিন্ন পর্যায়ে অংশ নেন। কখনো বল পায়ে সামনে এগিয়ে যান, আবার কখনো জায়গা বদলে সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করেন। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখার এই ক্ষমতা বার্সেলোনার আক্রমণকে আরও গতিশীল করতে পারে।
প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতা হতে পারে বাড়তি শক্তি
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনালের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে জেসুসের। শারীরিক লড়াই, দ্রুতগতির ফুটবল এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার চাপের সঙ্গে তিনি পরিচিত। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বার্সেলোনার খেলার ধরনে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
বার্সেলোনার আক্রমণভাগে জেসুসের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে তার চলাফেরা ও অবস্থান পরিবর্তনের দক্ষতা। তিনি নির্দিষ্ট জায়গায় স্থির না থেকে নিয়মিত পজিশন বদলান। এতে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের নিজেদের অবস্থান ছেড়ে এগিয়ে আসতে হয়, আর সেই ফাঁকা জায়গা কাজে লাগাতে পারেন তার সতীর্থরা।
নিজের খেলার ধরন বোঝাতে জেসুস একবার বলেছিলেন, ‘বল নিয়ে এবং বল ছাড়া—দুই অবস্থাতেই বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে আমার ভালো লাগে। আমি মাঠে থাকলে কিছু না কিছু ঘটবেই।’ তার এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখাই তার খেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে কি আবারও প্রথম একাদশে?
গেতাফের বিপক্ষে ৮১ মিনিট মাঠে ছিলেন জেসুস। ওই ম্যাচে তার পারফরম্যান্সের পর আগামী মঙ্গলবার গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে তাকে আবারও শুরুর একাদশে দেখা যায় কি না, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত একাদশে জায়গা পাওয়া নির্ভর করবে দলের কৌশল, খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা এবং কোচের ম্যাচ পরিকল্পনার ওপর। সুযোগ পেলে জেসুসের সামনে থাকবে নিজের সামর্থ্য আরও একবার প্রমাণ করার এবং বার্সেলোনার আক্রমণভাগে নিয়মিত জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ।
0 Response to "গেতাফের বিপক্ষে গোল করেই ফ্লিকের আস্থা অর্জন"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন