ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় নতুন নিয়ম

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় নতুন নিয়ম


 ই-রিকশা চালানোর সময় চালককে সড়কের বাম লেন অনুসরণ করতে হবে। মোবাইল ফোন ব্যবহার, নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য গাড়িকে অতিক্রম এবং অনিয়ম করে লেন পরিবর্তন করা যাবে না। ফুটপাতেও এসব যান চালানো নিষিদ্ধ।

যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে গাড়ির আকার অনুযায়ী চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী নেওয়া যাবে। যাত্রীদের হাতে বহনযোগ্য মালামাল ছাড়া অন্য বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা যাবে না। পাশাপাশি ৪০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতার হর্ন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রতিটি সিটি করপোরেশন সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে নিজ এলাকায় ই-রিকশার সংখ্যা নির্ধারণ করবে। প্রয়োজনে পুরো সিটি করপোরেশন অথবা নির্দিষ্ট জোনে এসব যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। জোনভিত্তিক রুট, গাড়ির সংখ্যা ও রং নির্ধারণের দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর থাকবে।

নিবন্ধন ফি ও নবায়নের নিয়ম

নতুন বিধিমালায় দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা। চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা ও বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা। সব ধরনের ই-রিকশার ফিটনেস সনদের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা।

নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, দুই কপি সত্যায়িত পাসপোর্ট আকারের ছবি, ফি জমার রসিদ এবং নির্ধারিত ফিটনেস সনদ জমা দিতে হবে। সব শর্ত পূরণ হলে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নম্বর প্লেট দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বিনামূল্যে নম্বর প্লেট ও তথ্যসংবলিত ব্লু-বুক সরবরাহ করবে। নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন মিলিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে। তবে এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।

ফিটনেস, ব্যাটারি ও আইন অমান্যের পরিণতি

বিধিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি ই-রিকশাকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য পূরণ করতে হবে। ফিটনেস সনদ এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর ছাড়া নিবন্ধন বা নবায়ন করা যাবে না। বর্তমানে চলাচলরত ই-রিকশাগুলোকেও প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন করে অনুমোদন নিতে হবে।

প্রতিটি ই-রিকশার ব্যবহারযোগ্য অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময় শেষ হলে নম্বর প্লেটসহ নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। পর্যায়ক্রমে ই-রিকশাগুলোকে বিমার আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে।

পার্কিংয়ের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক বা উপযুক্ত স্থানে নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করবে কর্তৃপক্ষ। ব্যাটারি চার্জ দিতে হবে অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট বা নির্ধারিত গ্যারেজে। এসব স্থানে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখার বিধান রয়েছে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরোনো ব্যাটারি খোলা জায়গা, মাটি, জলাশয় বা সাধারণ বর্জ্যে ফেলা কিংবা পোড়ানো নিষিদ্ধ। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ব্যাটারি ভাঙা বা গলানোও যাবে না।

নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, গতিসীমা অতিক্রম, নিষিদ্ধ সড়কে চলাচল, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা কাঠামো পরিবর্তন, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে গাড়ি থামিয়ে আহত ব্যক্তিদের সহায়তা করতে এবং পুলিশকে জানাতে হবে।

অবৈধ ও ত্রুটিপূর্ণ ই-রিকশার বিরুদ্ধে মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যৌথভাবে বা পৃথকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবেন। নতুন বিধিমালার মাধ্যমে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার চলাচল, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে

0 Response to "ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় নতুন নিয়ম"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন