খোলাবাজারে ডলারের দাম ১২৮ টাকা ছাড়াল, চাপে বাংলাদেশি মুদ্রা

খোলাবাজারে ডলারের দাম ১২৮ টাকা ছাড়াল, চাপে বাংলাদেশি মুদ্রা


 মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময়মূল্যে আবারও ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেখা যাচ্ছে। ব্যাংকিং খাতে ডলারের দর বাড়ার পাশাপাশি খোলাবাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জে প্রতি ডলার বিক্রির দর ১২৮ টাকা থেকে ১২৮ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত উঠেছে বলে বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যেও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের উচ্চ চাহিদার চিত্র পাওয়া যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর বিকেল ৫টা পর্যন্ত স্পট বাজারে ডলারের রেফারেন্স রেট ছিল ১২৪ টাকা ২১ পয়সার কাছাকাছি। তবে ব্যাংক, লেনদেনের ধরন ও সময়ভেদে ডলারের কেনা-বেচার দর আলাদা হতে পারে।

ব্যাংক ও এলসি নিষ্পত্তিতেও বাড়তি চাপ

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমদানি ব্যয় পরিশোধের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ডলার সংগ্রহ করতে হয়। বিশেষ করে ঋণপত্র বা এলসির দায় পরিশোধের সময় ডলারের দর বেড়ে গেলে আমদানিকারকদের টাকার হিসাবে খরচও বাড়ে।

প্রাপ্ত তথ্যে বলা হয়েছে, এলসি নিষ্পত্তিতে প্রতি ডলারের দর মাসের শুরুতে ১২৩ টাকা ১১ পয়সা থাকলেও বৃহস্পতিবার তা বেড়ে ১২৪ টাকা ২১ পয়সায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ উল্লেখিত দুই দরের ব্যবধান ১ টাকা ১০ পয়সা। তবে ব্যাংকভেদে প্রকৃত লেনদেনের হার ভিন্ন হতে পারে।

ডলারের চাহিদা বৃদ্ধির পেছনে জ্বালানি ও অন্যান্য আমদানি পণ্যের মূল্য পরিশোধের চাপকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সার আমদানিতে বেশি অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয়ের মধ্যে ব্যবধান থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ বাড়তে পারে।

খোলাবাজারে বাড়তি দামে ডলার

ব্যাংকিং খাতের বাইরে খোলাবাজারেও ডলারের দর বেড়েছে। রাজধানীর মতিঝিলের মানি এক্সচেঞ্জগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গ্রাহকদের কাছে প্রতি ডলার ১২৮ টাকা থেকে ১২৮ টাকা ২০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে, ডলার বিক্রি করতে আসা গ্রাহকেরা প্রতি ডলারের বিপরীতে পেয়েছেন প্রায় ১২৭ টাকা ৭০ থেকে ১২৭ টাকা ৮০ পয়সা।

প্রদত্ত বাজারতথ্য অনুযায়ী, এক মাস আগে খোলাবাজারে ডলারের দর ছিল ১২৫ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২৬ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে। সে হিসাবে সাম্প্রতিক সময়ে খোলাবাজারে ডলারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে খোলাবাজারের দর মানি এক্সচেঞ্জ, নগদ ডলারের প্রাপ্যতা এবং লেনদেনের সময় অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।

ডলারের দাম বাড়লে আমদানিনির্ভর পণ্য দেশে আনতে ব্যবসায়ীদের বেশি টাকা ব্যয় করতে হয়। সেই বাড়তি ব্যয় পণ্যের বিক্রয়মূল্যে যুক্ত হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি বিদেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা ও ভ্রমণের জন্য ডলার কিনতে যাওয়া মানুষকেও আগের তুলনায় বেশি টাকা গুনতে হতে পারে।

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল হবে, তা নির্ভর করবে ডলারের সরবরাহ, আমদানি পরিশোধের চাপ, রপ্তানি আয় এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। তাই বাজারের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য এবং ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জের লেনদেনের হার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন

0 Response to "খোলাবাজারে ডলারের দাম ১২৮ টাকা ছাড়াল, চাপে বাংলাদেশি মুদ্রা"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন