শীতের আগাম সবজির বাজারেও আগুন, টমেটো ২০০ টাকা কেজি

শীতের আগাম সবজির বাজারেও আগুন, টমেটো ২০০ টাকা কেজি


 রাজধানীর কাঁচাবাজারে শীতের আগাম সবজি উঠতে শুরু করলেও দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। শিম, ফুলকপি ও মুলার মতো মৌসুমি সবজি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু সেগুলো কিনতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। কোথাও কোথাও প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। অন্যদিকে পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকা বা তার বেশি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে প্রতি কেজি ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখি ও পটোল ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ও কাঁকরোলের দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা। আগাম মুলা ও ঢ্যাঁড়স কিনতেও ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৮০ টাকা করে। তবে আগাম শিমের দাম আরও বেশি—প্রতি কেজি ১৬০ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। আকার ও মানভেদে ফুলকপির প্রতিটি ৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউয়ের আকারভেদে প্রতিটি ৪০ থেকে ৬০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কাঁচা মরিচের বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়।

সবজির উচ্চমূল্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। বাজার করতে আসা রবিউল আলম বলেন, টমেটো কিনতে হয়েছে কেজিপ্রতি ১৮০ টাকা দরে। দেশি শসা ১০০ টাকা এবং শিম ১৬০ টাকা কেজি দরে কিনেছেন তিনি। তাঁর মতো অনেক ক্রেতাকেই প্রয়োজনীয় সবজি কিনতে গিয়ে বাজেটের সঙ্গে হিসাব মেলাতে হচ্ছে।

সবজির পাশাপাশি মাছ-মাংসের বাজারেও খুব একটা পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। সোনালি মুরগির দামও সাধারণত ৩১০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে থাকছে।

তবে ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় ডজনপ্রতি দাম ১০ টাকা কমে ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। চারটি ডিমের দাম রাখা হচ্ছে ৫০ টাকা। ডিম বিক্রেতা মাসুম আল হাসান জানান, বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৪০ টাকায় বিক্রি করছেন তাঁরা। গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে; প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।

মাছের বাজারেও প্রজাতি ও আকারভেদে দামের পার্থক্য রয়েছে। তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩๐ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মিগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছের দাম আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

এ ছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে ক্রেতাদের প্রতি কেজিতে এক হাজার টাকার বেশি খরচ হতে পারে। মাছের আকার, জীবিত বা মৃত অবস্থার ওপর দাম নির্ভর করছে। বাজার ও বিক্রেতাভেদে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্যও দেখা যায়।

মাছ বিক্রেতা আযাদ বলেন, মাছের দাম আগের মতোই রয়েছে। বর্তমানে রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ টাকা এবং পাঙাশ ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন তিনি। শুক্রবারে চাহিদা বেশি থাকায় কিছু মাছের দাম তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে শীতের আগাম সবজি কিনতে ক্রেতাদের বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। মাছ-মাংসের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও ডিমের দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে সবজির উচ্চমূল্য সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন বাজার খরচে চাপ তৈরি করছে

0 Response to "শীতের আগাম সবজির বাজারেও আগুন, টমেটো ২০০ টাকা কেজি"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন