ঢাকায় একই পর্দায় বাংলাদেশ-রাশিয়ার ৬ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র

ঢাকায় একই পর্দায় বাংলাদেশ-রাশিয়ার ৬ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র


 বাংলাদেশ ও রাশিয়ার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীল কাজ তুলে ধরা এবং দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ: একই পর্দায় দুই দেশ’ শীর্ষক বিশেষ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। এতে দুই দেশের মোট ছয়টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়, যার মধ্যে বাংলাদেশের তিনটি এবং রাশিয়ার তিনটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ছিল।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (ডিআইএমএফএফ) ২০২৭-এর উদ্যোগে এবং রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘টু নেশনস, ওয়ান স্ক্রিন’। চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে অতিথিরা দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক, চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পারস্পরিক পরিচিতি বৃদ্ধি এবং তরুণ নির্মাতাদের সৃজনশীল বিকাশ নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার পরিচালক মিস আলেকজান্দ্রা এ. ক্লেভনয়। তিনি বলেন, বই, গান ও চলচ্চিত্রের মতো বিভিন্ন মাধ্যম বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর মতে, ডিআইএমএফএফের মতো উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন তৈরির পাশাপাশি তরুণদের সৃজনশীলতা বিকাশেও ভূমিকা রাখে।

এরপর বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সুমন রহমান। তিনি বলেন, বইয়ের মাধ্যমে দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়ের যে ধারা গড়ে উঠেছিল, চলচ্চিত্রের মতো মাধ্যমেও তা অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে ভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সহায়তা করে।

ডিআইএমএফএফের প্রশিক্ষক মীর ওয়াদুদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে তরুণ ও স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাজ তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী নতুন নির্মাতাদের সৃজনশীল কাজ প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পথ তৈরি করে।

প্রদর্শনীর প্রথম পর্বে রাশিয়ার তিনটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দেখানো হয়। এগুলো হলো ওলেগ কন্দ্রাতিয়েভের ‘দ্য শেল’, মারিয়া সের্গেইয়েভনা ক্লেনোভস্কায়ার ‘রাস্পবেরি’ এবং ইলনুর মুখাম্বেতালিয়েভের ‘ওয়ান মিনিট’।

এরপর প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশের তিনটি চলচ্চিত্র—সোহান শেখের ‘হুরুম তুরুম’, জান্নাতুল ফেরদৌস আখির ‘গুডবাই’ এবং শৌমিক বক্সী দীপ্তের ‘সাউন্ড অব সাইলেন্স’। ভিন্ন ভাষা ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো দর্শকদের সামনে দুই দেশের গল্প বলার ধরন ও সৃজনশীল প্রকাশের বৈচিত্র্য তুলে ধরে।

প্রদর্শনী শেষে বক্তব্য দেন ডিআইএমএফএফের উৎসব পরিচালক সোহান শেখ। তিনি তরুণদের চলচ্চিত্র নির্মাণে উৎসাহিত করা এবং স্বাধীন নির্মাতাদের কাজ দর্শকদের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে উৎসবটির ভূমিকা তুলে ধরেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দর্শকদের পরিচিতি বাড়ানো এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারণের গুরুত্ব উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইউল্যাবের মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সমন্বয়ক ও ডিআইএমএফএফের উপদেষ্টা সৈয়দা সাদিয়া মেহজাবিন। তিনি আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত অতিথি, সহযোগী প্রতিষ্ঠান, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পরে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের দলীয় ছবি তোলার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (ডিআইএমএফএফ) মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাণকে উৎসাহিত করে। প্ল্যাটফর্মটি দেশ-বিদেশের তরুণ ও স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীল কাজ তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে। ঢাকার এ যৌথ প্রদর্শনীও দুই দেশের চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্য তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক যোগাযোগের একটি ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

0 Response to "ঢাকায় একই পর্দায় বাংলাদেশ-রাশিয়ার ৬ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন