ফর্টিফাইড সয়াবিন তেলে ভারী ধাতু মেলেনি, ১৯৩ নমুনা পরীক্ষার তথ্য জানালেন শিল্পমন্ত্রী
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ফর্টিফাইড সয়াবিন তেলের ১৯৩টি নমুনা পরীক্ষা করে কোনো নমুনায় ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) খোলাবাজার থেকে এসব নমুনা সংগ্রহ করে নিজস্ব অ্যাক্রেডিটেড পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর অফিসার্স ক্লাব ঢাকায় বিশ্ব মান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এ তথ্য জানান। সম্প্রতি একটি পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণার বরাত দিয়ে সয়াবিন তেলে বিষাক্ত ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বিএসটিআইয়ের পরীক্ষার ফলাফল ব্যাখ্যা করেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ বন্ধ করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বিএসটিআইয়ের নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণ করে দেশের সব এলাকায় তদারকি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু নজরদারি বাড়ালেই হবে না, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশজুড়ে নিয়মিত তদারকির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
‘অভিন্ন লক্ষ্য উন্নত বিশ্ব—সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল। এফসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন।
শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন দেখে পণ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা সম্পর্কে ক্রেতাদের মধ্যে আস্থা তৈরি হওয়াই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বড় অর্জন। দেশের পণ্যের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সরকার, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ পরিচিতিকে মান, আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতীকে পরিণত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক বলেন, নকল ও ভেজাল পণ্যের বিস্তার এবং প্রতিষ্ঠানের মানচিহ্নের অবৈধ ব্যবহার রোধ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অনিয়ম মোকাবিলায় বিশেষায়িত এনফোর্সমেন্ট ও ইন্টেলিজেন্স ইউনিট গঠনের প্রয়োজন রয়েছে। প্রস্তাবিত ইউনিটটি সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, মান শুধু একটি কাগজের সনদ নয়; এটি নাগরিকের সঙ্গে রাষ্ট্রের আস্থার সম্পর্কের প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের (বিএবি) কাছ থেকে হালাল সার্টিফিকেশন অ্যাক্রেডিটেশন সনদ অর্জন করে বিএসটিআই। শিল্পমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিএবির মহাপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালকের হাতে সনদ তুলে দেন। বিএসটিআইয়ের ন্যাশনাল হালাল ল্যাবরেটরির এ স্বীকৃতির ফলে হালাল পণ্যের মান যাচাই, সনদ প্রদানের ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বিএসটিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী, সবুজ প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে জাতীয় মান প্রণয়ন এবং পরীক্ষার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
এফসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, বিএসটিআইয়ের হালাল সার্টিফিকেশন অ্যাক্রেডিটেশন বাংলাদেশের পণ্যের জন্য আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধে বিএসটিআইকে আরও শক্তিশালী করতে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
বিশ্ব মান দিবসের আলোচনা সভায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা, ভেজাল প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
0 Response to "ফর্টিফাইড সয়াবিন তেলে ভারী ধাতু মেলেনি, ১৯৩ নমুনা পরীক্ষার তথ্য জানালেন শিল্পমন্ত্রী"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন