কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বিরোধ, বেইজিংয়ের প্রতিবাদ
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট কালচারাল সেন্টারগুলোকে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে চীন। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে অপপ্রচার ও চীনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছে বেইজিং। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগ চীন প্রত্যাখ্যান করছে।
চীনের বক্তব্য, শিক্ষা সহযোগিতায় বাধা দেওয়া উচিত নয়
গুও জিয়াকুন বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শিক্ষাবিষয়ক বিনিময় ও সহযোগিতা দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সহায়তা করে। তাঁর মতে, এ ধরনের সহযোগিতা উভয় দেশের জন্যই উপকারী। তাই শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়।
চীনের বক্তব্য অনুযায়ী, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটগুলো ভাষা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিচিতি বাড়ানোর কাজে যুক্ত। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগকে বেইজিং গ্রহণযোগ্য মনে করছে না।
কেন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট নিয়ে উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকা কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটগুলোকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও এ বিষয়ে অভিযোগ তুলেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে হেগসেথ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটগুলো ভিন্ন পরিচয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাঁর অভিযোগ, ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন নাম ও সনদ ব্যবহার করে নতুন করে ৮০টি প্রচারকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এসব কার্যক্রমের উদ্দেশ্য মেধাস্বত্ব চুরি এবং মার্কিন শিক্ষার্থীদের চিন্তাভাবনায় প্রভাব বিস্তার করা বলে তিনি দাবি করেন।
তবে হেগসেথের এসব বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষের অভিযোগ। চীন এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।
কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট কী?
প্রাচীন চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াসের নামে প্রতিষ্ঠিত কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটগুলো চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে শিক্ষা এবং পরিচিতি বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে বিভিন্ন দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসব প্রতিষ্ঠান চীনের সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তবে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, প্রভাব এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিভিন্ন দেশে বিতর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে।
চীন যেখানে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়কে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে দেখছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। দুই দেশের এই ভিন্ন অবস্থান ভবিষ্যতে তাদের শিক্ষাবিষয়ক সহযোগিতায় কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়।
0 Response to "কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বিরোধ, বেইজিংয়ের প্রতিবাদ"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন