এআই দিয়ে ভুয়া ভিডিও ও কণ্ঠ নকল করে প্রতারণা হারাম: শায়খ সুদাইস

এআই দিয়ে ভুয়া ভিডিও ও কণ্ঠ নকল করে প্রতারণা হারাম: শায়খ সুদাইস


 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি, মানুষের কণ্ঠ নকল এবং মিথ্যা বক্তব্য ছড়িয়ে প্রতারণা করাকে হারাম বলে সতর্ক করেছেন শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস। প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে বিরত থাকতে এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ভুয়া তথ্য ছড়ানো, ভিডিও জালিয়াতি এবং কারও কণ্ঠস্বর নকল করে বিভ্রান্তি তৈরির বিষয়ে সতর্ক করে শায়খ সুদাইস বলেছেন, এসব প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড ইসলামী শরিয়াহর দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ এবং মিথ্যাচারের অন্তর্ভুক্ত।

প্রযুক্তির সাহায্যে অন্যের পরিচয় ধারণ করা, কেউ যে বক্তব্য দেননি তা তাঁর নামে প্রচার করা কিংবা কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিও দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার বিষয়েও সতর্ক করেছেন তিনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ব্যক্তির সম্মানহানি ঘটানোর পাশাপাশি সমাজে অবিশ্বাস ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিতে পারে।

তবে শায়খ সুদাইস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে সামগ্রিকভাবে নিন্দা করেননি। বরং আধুনিক প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত হিসেবে উল্লেখ করে এগুলো ভালো কাজ, কল্যাণ ও মানুষের উপকারে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যাচাই না করা তথ্য ছড়িয়ে দিলে গুজবের বিস্তার ঘটে, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হতে পারে। একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে আস্থা কমে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।

বর্তমানে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে বাস্তব মানুষের মতো দেখতে ভিডিও তৈরি এবং অবিকল কণ্ঠস্বর নকল করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণা, ভুয়া বক্তব্য প্রচার ও পরিচয় জালিয়াতির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি এর নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে কোনো ভিডিও, অডিও বা বক্তব্যের সত্যতা যাচাই না করে তা ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

0 Response to "এআই দিয়ে ভুয়া ভিডিও ও কণ্ঠ নকল করে প্রতারণা হারাম: শায়খ সুদাইস"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন