২০২৭ সালের এসএসসি ফরম পূরণ শুরু ১৬ নভেম্বর, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা
২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার অনলাইনে ফরম পূরণ ও ফি জমা দেওয়ার সময়সূচি প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষার্থীরা অনলাইনে ফরম পূরণ ও ফি জমা দিতে পারবে। অন্যদিকে, বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের সুযোগ থাকবে ২৪ নভেম্বর থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে ফরম পূরণের সময়সূচির পাশাপাশি নিয়মিত, অনিয়মিত, জিপিএ উন্নয়ন এবং বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের শর্ত ও বিভিন্ন নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।
নিয়মিত পরীক্ষার্থী কারা
বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের রেজিস্ট্রেশনধারী শিক্ষার্থীরা ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবে।
অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনা
২০২৩-২০২৪ ও ২০২৪-২০২৫ সালের রেজিস্ট্রেশনধারী যেসব শিক্ষার্থী ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তারা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৭ সালের পরীক্ষায় অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবে। তাদের কোনো অবস্থাতেই নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে গণ্য করা হবে না।
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে চতুর্থ বিষয় বাদে এক থেকে চার বিষয়ে অকৃতকার্যরা রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে ২০২৭ সালে শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পরীক্ষা দিতে পারবে। চাইলে তারা সব বিষয়েও অংশ নিতে পারবে।
এ ছাড়া, ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয় বাদে এক থেকে তিন বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যারা ২০২৬ সালের পরীক্ষায় অংশ নেয়নি অথবা অংশ নিয়েও আবার এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তারাও রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। তারা আগের অকৃতকার্য বিষয়গুলো অথবা সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে। তবে আংশিক বিষয়ে পরীক্ষা দিলে চতুর্থ বিষয়ে অংশ নেওয়া যাবে না।
রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হলে কী করতে হবে
২০২২-২০২৩ সালের রেজিস্ট্রেশনধারী যেসব শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে, কিন্তু চতুর্থ বিষয় বাদে এখনো একটি বিষয়ে অকৃতকার্য রয়েছে, তারা বিশেষ বিবেচনায় রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ এক বছরের জন্য নবায়ন করতে পারবে। এ সুযোগে তারা ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে শুধু অকৃতকার্য বিষয়ে অংশ নিতে পারবে।
এ ক্ষেত্রে ফরম পূরণের আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে শিক্ষার্থীর মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিদ্যালয় পরিদর্শকের দপ্তরে জমা দিয়ে নবায়ন করা রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।
বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্তে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের আগে উত্তীর্ণ বিষয়গুলোর গ্রেড পয়েন্ট সংরক্ষিত থাকবে। ২০২৭ সালের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বিষয়গুলোর গ্রেড পয়েন্টের সঙ্গে সংরক্ষিত গ্রেড পয়েন্ট যোগ করে চূড়ান্ত জিপিএ নির্ধারণ করা হবে।
জিপিএ উন্নয়নের সুযোগ পাবেন কারা
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হলেও জিপিএ-৫-এর কম পাওয়া শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের পরীক্ষায় জিপিএ উন্নয়নের সুযোগ পাবে।
এ জন্য তাদের ২০২৬ সালের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস অনুযায়ী সব বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের জন্য বোর্ডের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নিয়ম
বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এবং রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ বহাল থাকলে তারা ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবে। তবে তাদের সব বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
চতুর্থ বিষয়ের সুবিধা যেভাবে মিলবে
২০২৩-২০২৪ ও ২০২৪-২০২৫ সালের রেজিস্ট্রেশনধারী যেসব শিক্ষার্থী ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তারা অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে ২০২৭ সালে চতুর্থ বিষয়সহ সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে।
অন্যদিকে, এসব শিক্ষাবর্ষের যেসব পরীক্ষার্থী ২০২৫ ও ২০২৬ সালের পরীক্ষায় সব বিষয়ে অংশ নিয়ে চতুর্থ বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে, কিন্তু এক থেকে চার বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তারা ২০২৭ সালের পরীক্ষায় আগের অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হলে চতুর্থ বিষয়ের সুবিধা পাবে।
কোন সিলেবাসে পরীক্ষা হবে
বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার সিলেবাস সম্পর্কেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনিয়মিত ও জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থীরা ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবে। অন্যদিকে, নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা হবে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে।
শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার এডুকেশন বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়নের নম্বর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নির্দেশনা অনুসারে নির্ধারণ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে এসব নম্বর সরবরাহ করবে। কেন্দ্র ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নের নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে পাঠাবে। পাশাপাশি ধারাবাহিক মূল্যায়নের হাতে লেখা মূল নম্বরপত্র মাধ্যমিক পরীক্ষা শাখায় সরাসরি জমা দিতে হবে।
নির্বাচনি পরীক্ষা কি বাধ্যতামূলক
বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থী এবং আগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের বাদে অন্য সব শিক্ষার্থীর জন্য নির্বাচনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক।
তাই ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নিজেদের পরীক্ষার্থী-শ্রেণি, রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ এবং প্রযোজ্য নিয়ম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া উচিত
0 Response to "২০২৭ সালের এসএসসি ফরম পূরণ শুরু ১৬ নভেম্বর, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন